মোদির রাজ্যে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ওপর গোপন জরিপ

447

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজের রাজ্য গুজরাটে মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

বিজেপি সরকারের এ উদ্যোগের কথা গত শুক্রবার একটি সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে মুসলিম সংখ্যালঘুদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

রাজ্যসরকারের আচরণে আতঙ্কিত অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ। তবে এ কাজ ‘সংবিধানবিরোধী’ বলে সরব হয়েছেন রাজ্যের বিরোধী নেতারা। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

মুসলিম শিক্ষার্থী চিহ্নিতকরণ সম্পর্কে সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের বোর্ড পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় পরীক্ষার্থী মুসলিম কিনা জানতে চাওয়া হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুজরাটে আরও অন্তত চার ধর্মীয় সংখ্যালঘু- খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ ও জৈনরা থাকেন। কিন্তু গুজরাট সরকার শুধু মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের কাছেই তাদের পরিচয় জানতে চাইছে।

মুসলিম শিক্ষার্থীদের বাবা-মায়ের প্রশ্ন-কেন গুজরাট সরকার এসব তথ্য সংগ্রহ করছে? এসব তথ্যের অপব্যবহার হবে বলে আশঙ্কা অনেকের।

দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মুসলিম শিক্ষার্থীর বাবা জানান, ব্যাপারটি অবাক করার মতো। অনলাইন ফরমের তথ্য যদি অন্য কাজে লাগানো হয়, তাই খুব ভয়ে আছি।

দ্বাদশ শ্রেণির আরেক ছাত্রের বাবা একটি রেস্তোরাঁ চালান। তিনি বলেন, ২০০২ সালের নির্বাচনের আগে গুজরাট সরকার এ ধরনের একটি জরিপ চালু করেছিল।

তখন প্রতিটি থানা তাদের এলাকার মুসলিম ব্যবসায়ীদের পরিচয় জানাতে বলেছিল। তার পরেই তাদের সব রেস্তোরাঁ পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল।

এ কাজের জন্য দাঙ্গাবাজরা সরকার এবং পুলিশের সংগ্রহ করা তথ্যই কাজে লাগিয়েছিল। এখন আমি আমার ছেলের জন্য ভয় পাচ্ছি। গুজরাট সরকার কেন জানতে চাইছে, কোন ছাত্র মুসলিম না অমুসলিম।

এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন জিগ্নেশ মেবাণী, হার্দিক পটেলের মতো বিরোধী নেতারা। তাদের বক্তব্য, গুজরাট সরকার মুখে জাতীয়তাবাদের কথা বললেও এভাবেই ধর্মের নামে ভাগাভাগি করছে। গোটা বিষয়টি অসাংবিধানিক বলেও দাবি করেন জিগ্নেশ।