ভাগ্য খুলছে না আপীল দায়ের করে

460

প্রার্থিতা ফিরে পেতে কমিশনে আপীল দায়ের করলেও ভাগ্য খুলছে না দুই বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত ও ঋণখেলাপীদের। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার তালিকায় বেশিরভাগ রয়েছেন বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের হেভিওয়েট প্রার্থী; যারা একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ছিলেন মন্ত্রীও। কিন্তু ঋণখেলাপী ও সাজার কারণে আপীলেও তাদের ভাগ্য ঝুলে যেতে পারে। ইতোমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিয়েছেন।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তিন শ’ আসনের সব কেন্দ্রে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এবারের নির্বাচনে ১০ কোটি ৪২ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তিন শ’ আসনের মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৪০ হাজার ১৯৯টি। বুধবার এসব কেন্দ্রে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

কমিশন সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ এর আগে এ বিষয়ে বলেন, প্রার্থী অভিযুক্ত আসামি হলে বা ঋণখেলাপী হলেও তার প্রার্থিতা বাতিল হবে। বড় ধরনের ভুলের ক্ষেত্রে নমনীয় হওয়ার কোন সুযোগ নেই। নাম-ঠিকানা ভুলের মতো ছোটখাটো ভুল-ত্রুটি কমিশনের পক্ষ থেকে ক্ষমার চোখে দেখা হয়। যদিও এ বিষয়ে ইসি মাহবুব তালুকদার বলেছেনÑ কমিশনে যারা আপীল দায়ের করেছেন তাদের কারও প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হবে না। প্রতিটি কেস মেরিট অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।

বাতিল হওয়া এসব সংক্ষুব্ধ প্রার্থী এখন নির্বাচন কশিমনে ভিড় করছেন। প্রার্র্থিতা ফিরে পেতে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপীল দায়ের করেছেন। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী গত দুদিনে ৩১৬ প্রার্থী কমিশনে আপীল করেছেন। তারা আশাও করছেন কমিশন তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করবেন। তবে জানা গেছে, ছোটখাটো ভুলে যেসব মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে তা কমিশনের বিবেচনায় ফিরে পেলেও আদালতে যাদের সাজা স্থগিত করা হয়নি বা ঋণখেলাপীর সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে এমন প্রার্থীদের বিষয়ে কমিশনের কিছুই করার নেই। কমিশন জানিয়েছে, যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে আজ বেলা ৫টার মধ্যে নির্বাচন কমিশনে কমিশনকে সম্বোধন করে সচিবের কাছে আপীল করতে হবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে এসব আপীল আবেদনের ওপর কমিশনে শুনানি করা হবে।

মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপীল ॥ অনুচ্ছেদ ১ এর ১৪ দফার (৫) এর অধীনে মনোনয়নপত্র বাছাই অন্তে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন সিদ্ধান্তে কোন প্রার্থী, বা কোন ব্যাংক সংক্ষুব্ধ হলে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পরবর্তী তিনদিনের মধ্যে প্রার্থী স্বয়ং কিংবা প্রার্র্থীর লিখিতভাবে ক্ষমতা প্রদত্ত ব্যক্তি মারফত আপীল দায়ের করতে পারবেন। আপীলে কমিশনকে সম্বোধন করে আপীল দায়ের করতে হবে। আপীল স্মারকলিপি আকারে হবে। এতে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপীলের কারণ সংবলিত বিবৃতি এবং তর্কিত আদেশের একটি সত্যায়িত অনুলিপি সংযুক্ত করতে হবে। স্মারকলিপি আকারে দায়ের করা আপীলের মূল কপিসহ মোট সাতটি কপি দাখিল করতে হবে। কমিশন সংক্ষিপ্তভাবে বা যেভাবে বিবেচনা করেন সেভাবে আপীল নিষ্পত্তি করবেন। কমিশন সচিব জানান, ইসি নিষ্পত্তিতে কোন প্রার্থী সন্তুষ্ট না হলে শেষ আশ্রয় হিসেবে তিনি আদালতে যেতে পারবেন। তবে আদালত কোন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করলে সেই প্রার্থী আর নির্বাচন করতে পারবেন না।

 

গত ২ ডিসেম্বর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাইকালে সারাদেশে ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়া হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিলের এই তালিকায় যেমন স্বয়ং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া রয়েছেন। তেমনি দলের হেভিওয়েট প্রার্থীও রয়েছেন। এছাড়া অন্য দলের আলোচিত প্রার্থীরা এই তালিকায় রয়েছেন। মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণে এখন ৩৯ আসনে আওয়ামী লীগের এবং ১৩ আসনে বিএনপির কোন প্রার্থী থাকল না। অবশ্য মনোনয়নপত্র জমার সময় আওয়ামী লীগ ৩৬টি আসনে জোটের শরিকদের রেখে কোন প্রার্থী দেয়নি। বাছাইয়ে তাদের তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়া হয়েছে। ফলে তিন আসনে নতুন করে প্রার্থী সঙ্কট দেখা দিয়েছে। আসন তিনটির মধ্যে রয়েছে কুড়িগ্রাম-৪, সাতক্ষীরা-১ ও নারায়ণগঞ্জ-৩। অপরদিকে বিএনপির ৫টি আসনে জোটের শরিকদের রেখে ২৯৫ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়। বাছাইয়ে তাদের ১৪১ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হলে আরও ৮টি আসনে প্রার্থী সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এসব আসনের মধ্যে রয়েছে ঢাকা-১৮ ও ১৬, বগুড়া-৭, মানিকগঞ্জ-২, জামালপুর-৪ ও পাবনা-১ আসন। এসব আসনের সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা কমিশনে আপীল দায়ের করছেন। কমিশন তাদের প্রার্থিতা ফিরিয়ে দিলে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। আর কমিশনে আপীল না টিকলে আদালতে যাবেন। আদালত খারিজ করে দিলে তিনি আর নির্বাচন করতে পারবেন না। এসব আসনে দল দুটি কোন প্রার্থী ছাড়াই নির্বাচন করতে হবে। তবে কমিশন সূত্র জানিয়েছে, এসব আসনের প্রার্থীরা ঋণখেলাপী হলে বা সাজাপ্রাপ্ত হলে আপীলে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

গত সোমবার থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে চলছে আপীল গ্রহণ। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩১৬ প্রার্থী প্রার্থিতা ফিরে পেতে কমিশনে আবেদন করেছেন। এর মধ্যে আলোচিত প্রার্থী গোলাম মওলা রনি, বিএনপির সাবেক মন্ত্রী মীর নাসির,রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুল, বিএনপির চিকিৎসক সংগঠন ড্যাবের মহাসচিব ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ জেডএম জাহিদ হোসেন ও জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, নায়ক সোহেল রানা রয়েছেন।

আপীল দায়েরের পর রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু সাংবাদিকদের বলেন, দুলু বলেন, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, হাজি সেলিম, পঙ্কজ দেবনাথ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারলে আমরা বিএনপি প্রার্থীরা কেন করতে পারব না। তিনি বলেন নাটোর-২ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিলে কনভিকশন আছে জানিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা সেটি বাতিল করেন।

 

কমিশনে আপীল শেষে পটুয়াখালী-৩ আসনের বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী গোলাম মওলা রনি বলেন, তিনি কমিশনের কাছে ন্যায়বিচার পাবেন। বিশ্বাস করি, এই নির্বাচন কমিশনের মেরুদ- আছে। তারা সরকারের তল্পিবাহক নন। নির্বাচন কমিশন জুডিসিয়ারি বোর্ড। আমি এখানে বিচারপ্রার্থী। আশা করছি সুবিচার পাব।

প্রার্থিতা ফিরে পেতে বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের হেভিওয়েট প্রার্থিতা আপীল শুরু করেছেন নির্বাচন কমিশনে। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কোন আপীল কমিশনে যায়নি। কমিশন জানিয়েছে আজ বিকেল ৫টার মধ্যে যেসব প্রার্থী আপীল করবেন কেবল তাদের বিষয়টি নিয়ে নিষ্পত্তি করা হবে। এর বাইরে কোন প্রার্থীর বিষয় কমিশন আমলে নেবে না।

বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার বিষয়টি। রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেক আগ থেকেই আলোচনায় ছিলেন এবার বেগম জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেয়া অনেকটাই অনিশ্চিত। বাছাইয়ের দিনে তার তিনটি মনোনয়নপত্রই বাতিল করে দেয়া হয়েছে। খালেদা জিয়া দুটি মামলায় দ-প্রাপ্ত হয়ে কারাগারে বন্দী রয়েছেন। ইতোমধ্যে আদালত জানিয়ে দিয়েছে দ-প্রাপ্তরা নির্বাচনে অযোগ্য হবে। এক্ষেত্রে খালেদা জিয়া আপীল নির্বাচন কমিশনে না-ও টিকতে পারে। এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হতে খালেদা জিয়া ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন। সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ জানিয়েছে, দুর্নীতি মামলায় যাদের দুই বছরের বেশি সাজা হয়েছে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দীকী। তিনি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অতি পরিচিত এক মুখ। তিনি এবার ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের শরিক হিসেবে যোগ দিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এছাড়া বিএনপি এই জোটে থাকায় তিনি এবার ধানের শীষে নির্বাচনে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। টাঙ্গাইল-৮ আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিলে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়া হয়েছে। যদিও তিনি এখন পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোন আপীল করেননি।

দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন পটুয়াখালী-১ আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। ঋণখেলাপী হওয়ায় এবার তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেছে। তবে তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে আপীল করেছেন। বিএনপি নেতা এম মোর্শেদ খান চট্টগ্রামের বোয়ালখালী আসন থেকে নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তিনি বিএনপি সরকারের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া দলের মধ্যে তার যেমন গুরুত্ব রয়েছে রাজনীতিবিদ হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুত বিল বকেয়া থাকার কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা। যদিও তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে আপীল করেননি। রাজনীতিতে অপর আলোচিত মুখ গোলাম মওলা রনি। তিনি সম্প্রতি নির্বাচনের জন্য বিএনপিতে যোগ দেন। এবং দলটির পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু মনোনয়নপত্রের হলফনামায় তার কোন স্বাক্ষর ছিল না। এছাড়া যে আইনজীবীর স্বাক্ষর ছিল বাছাইয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। যদিও তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোমবারই কমিশনে আপীল করেছেন। তিনি বলেন, আশা করি ন্যায়বিচার পাব।

 

ঢাকা-৯ আসনে ঋণখেলাপীর কারণে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া মির্জা আব্বাস সময়মতো হাজির না হওয়ার কারণে এই আসনে তার মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেনি। যদিও হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র ২৫ ঘণ্টার মধ্যে জম্া নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। রাজনীতির ময়দানে হঠাৎ আবির্ভাব সাবেক অর্থমন্ত্রীর ছেলে রেজা কিবরিয়া। ড. কামালের নেতৃতা¡ধীন ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়ার পরই তিনি গণফোরামে যোগ দেন। বিএনপির ধানের শীষে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। যদিও তাকে নিয়ে বিএনপিতে অনেক আলোচনা রয়েছে। তার পিতা হত্যার মামলায় সংশ্লিষ্ট এলাকার বিএনপির বড় নেতাদের নামে মামলা রয়েছে। তারপরও হবিগঞ্জে এই আসনে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেছে। তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে আপীল করেছেন।

এদিকে এসব হেভিওয়েট প্রার্থী রিটার্নিং কর্মকর্তার পর এবার কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে কমিশনে আপীল দায়েরকারী প্রার্থীদের বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। কমিশনে নিষ্পত্তি শেষে প্রার্থীরা আদালতে যেতে পারবেন। সেখানে বঞ্চিত হলে তারা নির্বাচন করতে পারবে না। সব হিসাব-নিকাশ শেষে ৯ ডিসেম্বর কমিশন তিন শ’ আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে। তার আগে বাকি চারদিনের মধ্যে এসব প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। তবে ঋণখেলাপী এবং দু’বছরের সাজা রয়েছে যাদের তাদের ভাগ্য কমিশন বা আদালতেও খুলতে না পারে। কারণ, কমিশন এবং আদালত থেকে এই মর্মে তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে।

সংসদের ৩শ’ আসনের সব কেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ ॥ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের অন্তত ২৫ দিন আগে আসনভিত্তিক ভোটকেন্দ্রের গেজেট করার আইনী বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জানা গেছে, সোমবার ও মঙ্গলবার দুদিনে দেশের ৩০০ আসনের সব কেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ সম্পন্ন করা হয়েছে। খবর ওয়েবসাইটের।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ১০ কোটি ৪২ লাখ ভোটারের জন্য ৪০ হাজার ১৯৯টি ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা করা হয়। এর আগে আগস্টে একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ৩০০ আসনে ৪০ হাজার ৬৫৭টি সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের তালিকা হয়।

সর্বশেষ দশম সংসদ নির্বাচনে নয় কোটি ১৯ লাখ ভোটারের বিপরীতে ভোটকেন্দ্র ছিল ৩৭ হাজার ৭০৭টি। ৩০০ আসনে ভোটকক্ষ ছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭৮টি। এবার দেশের ১০ কোটি ৪২ লাখ ভোটারের জন্য প্রায় ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্রে ভোটকক্ষ থাকবে দুই লাখেরও বেশি। জানা গেছে, রিটার্নিং কর্মকর্তার পাঠানো ৩০০ আসনের সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন অনুমোদন দিয়ে তার গেজেট প্রকাশের জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়।

 

নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে উপসচিব আব্দুল হালিম খান স্বাক্ষরিত আসনভিত্তিক কেন্দ্রের গেজেটে ভোটকেন্দ্রের ক্রমিক নম্বর, ভোটকেন্দ্রের নাম ও অবস্থান, ভোটকক্ষের সংখ্যা, ভোটার এলাকা, পুরুষ ও মহিলাসহ মোট ভোটার সংখ্যা উল্লেখ রয়েছে।

 

সূত্র : সাংবাদিক শাহীন রহমান, দৈনিক জনকন্ঠ।