শিক্ষিত জাতি গঠনে শিশুশ্রমকে না বলতে হবেঃ শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী 

155
।।মোঃ আল আমিন খান, খুলনা ব্যুরো।।
শনিবার সকালে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ‘ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন এবং গৃহকর্মী সুরক্ষা নীতি ২০১৫’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত বিভাগীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, উন্নত-সমৃদ্ধ শিক্ষিত জাতি গঠনে শিশুশ্রমকে না বলতে হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রমমুক্ত শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার। ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে জনসচেতনতার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। এই লক্ষ্যে তাঁর মন্ত্রণালয় দুইশত ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে এক লাখ শিশুকে টার্গেট করে ছয় মাসের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং চার মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে শিশুশ্রম হতে প্রত্যাহার করা হবে। এই এক লাখ শিশুর বাবা-মাকে প্রতিমাসে এক হাজার টাকা এবং প্রশিক্ষণ শেষে আত্মকর্মসংস্থানের জন্য এককালিন ১৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হবে। প্রতিমন্ত্রী ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুর বাবা-মা এবং কারখানার মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুদের নিয়োগ দিয়ে তাদের আলোতিক ভবিষ্যত নষ্ট করবেন না। প্রতিমন্ত্রী গৃহকর্মীদের বিষয়ে মানবিক হওয়ার জন্য সমাজের বৃত্তবানদের প্রতি আহবান জানান। কর্মশালায় জানানো হয়, সরকার ঘোষিত ৩৮টি ঝুঁকিপূর্ণ কাজের মধ্যে ১১টি খাতকে শীঘ্রই শিশুশ্রমমুক্ত ঘোষণা করতে কাজ করছে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপÍর। ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে খুলনা বিভাগের ৫৯টি উপজেলার মধ্যে ৫০টি উপজেলায় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া খুলনা জেলায় শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুদের ডাটাবেজ তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে বলে জানানো হয়। খুলনার বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়ার সভাপতিত্বে কর্মশালায় মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আলী আজম, অতিরিক্ত সচিব ড. মোল্লা জালাল উদ্দিন, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কে এম মিজানুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ডাঃ আনিসুল আওয়াল, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন এবং ওয়ার্ল্ড ভিশনের আঞ্চলিক পরিচালক লিমা হান্না দুরিন বক্তৃতা করেন।
কর্মশালায় খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশু, গৃহকর্মীসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন। বিভাগীয় প্রশাসন, বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তর, খুলনা কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।