খাদ্যে ভেজাল সনাক্ত করতে প্রয়োজন কঠোর আইনী ব্যবস্থা

252
সিআইএনটিভি২৪ ডেক্স :
দূষন দখলে নগ্ন থাবায় যেমন হারাচ্ছে খর শ্রোতা নদ-নদী তেমন হারাচ্ছে তার যৌবন জীবন ঠিক তেমনই প্রতিনিয়ত মানুষ বিষ খেয়ে মারাত্মক নানা রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে।রোগগ্রস্ত মানুষ হারাচ্ছে তাদের পরমায়ু।দেশ-বিদেশে গিয়ে চিকিৎসায় ব্যয় করছে বিপুলপরিমাণ টাকা।প্রায় প্রতিটি মানুষ কোনো না কোন রোগেে আক্রান্ত।খাদ্যে বিষ ক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মানুষের অকাল মৃত্যু হচ্ছে।সিংহভাগ মানুষকে জীবন্ত লাশে পরিণত করেছে ভেজাল কারবারীরা।কিন্তুু তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।সংগত কারণে তারা বেপরোয়া ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।সবত্রই ভেজাল, মিলছে না ভেজাল মুক্তখাদ্য। ভেজালের ছয়লাব সারাদেশ। মাছে,দুধে,ফল-ফলাদিতে মেশানো হচ্ছে ফরমালি, কলায় মেশানো হচ্ছে কারবাইড সহ রাসায়নিক ও বিষাক্ত ক্যামিক্যাল।শাক-সবজিতে কীটনাশ,জিলাপি-চানাচুরে মবিল,ব্রেড-বিস্কুট সেমাইসহ সব রকম মিষ্টিতে মেশানো হচ্ছে টেক্সটাইল চামড়ার রং,মুড়িতে চিড়ায়,চাউলে ইউরিয়া হাইড্রোজনের অবাধ ব্যবহার চল। শিশু খাদ্য দুধেও ভেজাল পাওয়া গেছে।খেজুর গুড় পাটালিতে ভেজাল দেওয়ার অভিযোগ আছে।
সয়াবিন তেল,পাম ওয়েল,ঘি,মরিচ,আটা,হলুদে ভেজাল দেওয়ার পাশাপাশি কলা,আম,পেঁপে আনারস,পেয়ারা,আপেল নাসপতিসহ দেশী-বিদেশী ফলে ক্যামিক্যাল মেশানো হচ্ছে।অতিরিক্ত রেডিয়েশন যুক্ত গুঁড়া দুধ আমদানি হচ্ছে দেদার।ছানা পরিতাক্ত পানির সঙ্গে ভাতের মাড় এরারুট আর ক্যামিক্যাশ মিশিয়ে তৈরী সাদা তরল পদার্থকে গরুর দুধ বলে সরবরাহ করা হচ্ছে।আইসক্রিমে নোংরা পানি ব্যবহার ও বেকারীর রুটি-বিস্কুট -কেক এবং আইসক্রিম মিষ্ঠিসহ অনেক চিনির পরিবর্তে ব্যবহার হচ্ছে সোডিয়াম সাইক্লামেট।মশলায় মেশানো হচ্ছে কাউন ও কাঠের গুঁড়া।জীবন ধারণের পানিতে মেশানো হচ্ছে জীবাণুযুক্ত পুকুর- ডোবার এবং ওয়াশার পানি কাপড়েে সেঁকে বোতল করা হচ্ছে।খাবার হোটেলে অভিযান চালিয়ে মরা মুরগী ও মরা গরুর মাংসও সনাক্ত করেছে।ভেজাল বিরোধী অভিযানেে হোটেল ও ফাস্ট ফুডের দোকানেে ব্যাপক ভেজাল খাদ্য সন্ধান পেয়েছে কতৃপক্ষ।সেসব হোটেল গুলোতে নোংরা ও স্যাতসেঁতে পরিবেশ ধরা পড়েছে।র‍্যাবের অভিযানে অতিসম্প্রতি জীবন রক্ষাকারী ভেজাল ঔষধ আটক করেছে।নিম্নমানের ভোজ্য তেলে উগ্র ইণ্ডিয়ান হাইড্রোজ মিশিয়ে ঝাঁঝালো সরিষার তেল বলে বিক্রি হচ্ছে।আরো যে আতংকের সংবাদ আর তা হল,বাজারে বর্তমানে কাঁচা রাবারের তৈরী ডিমের বেচাকেনা    চলছে। সেগুলো বিভিন্ন বা্র্গার পণ্যে এসব ডিম ব্যবহৃত হচ্ছে।
   অতিসম্প্রতি রাজধানী হোটেল-রেস্টুরেন্টে ৩০০পিচ মরা পঁচা মুরগীসহ হাতে নাতে দুইজনকে আটক করেছে র‍্যাব সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে,উপরল্লেখিত নিত্য পণ্য সামগ্রীতে যে সব বিষ মেশানো হচ্ছে তা হল,ভয়ংকর ক্যামিক্যাল ও গ্যাস জাতীয় ইথাইলিন ও হরমোন জাতীয় ইথরিল ক্যাসিয়াম কারবাইড রীতিমতো বিষ।কীটনাশকের মধ্যে রিনকড, সিমবুন সুমিথিয়ান,সুমি সাই ডিন,হেপ্টাক্লোর,থায়াডিন,ডিডিটি,কীটনাশক শাক-সবজিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।ভেজাল পানিতে আর্সেনিক ক্যাডমিয়াম -লেড ইকোলাই পাওয়া গেছে।এনার্জি ড্রিন্কে ব্যবহার হচ্ছে ক্যাফেইন ও উত্তেজক পদার্থ সিলডেনাফিল সাইট্রেট।চিকিৎসা  বিজ্ঞানীদের মতে যেসব রোগ হবে যেমন অকাল মৃত্যু, বিকলঙ্গ শিশুর জন্ম, অন্ধত্ব ক্যান্সার,হেপাটাইটিস কিডনি লিভাারেরসহ ১৫টি কঠিন রোগে আক্রান্ত হবে। তারাা বলেছেেন, বিশ্বের উন্নত রাস্ট্র গুলো সবচেয়ে গুরুত্ব  দেয় ভেজালমুক্ত খাদ্যর উপর।   অথচ আমাদের  দেশে ব্যতিক্রম। আমাদের দেশের ভেজালকারী মারাত্মক অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক কঠোর ব্যবস্হা নেওয়া
  হয় না। এসব দেখভালকারীর দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশন, বি এস টি আই, সাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্তালয়ে অধীন জনস্বাস্হ্য ইনস্টিটিউশন, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন,সমবায় মন্ত্রনালয়ের অধীন সিটি কর্পোরেশন, খাদ্য অধিদপ্তর ভোক্ত অধিকার সংরক্ষণ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও পরীক্ষাগার, মৎস্য অধিদপ্তর, পশু সম্পদ বিভাগ, উদ্ভিদ সংরক্ষণ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর।          নিরাপদ খাদ্য কতৃপক্ষের উদ্যেগে গ্রেডিং ব্যবস্থায় প্রাথমিক ভাবে সনাক্ত হয়েছে মারাত্নক ভেজাল। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ৪০ শতাংশে খাদ্যে মানবদেহের জন্য  সহনীয় মাত্রার চেয়ে ২০ গুণ পর্যন্ত বেশি বিশাক্ত উপাদান সনাক্ত হয়। ঐ গবেষণায় ৩৫ শতাংশ ফল ৫০ শতাংশ শাক-সবজি নমুনাতে বিষাক্ত কীটনাশকের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই ছাড়া মাছের ৬৬ নমুনাই পাওয়া গেছে ফরমালিন। চাউলে ১৩ টি নমুনা মিলেছে মাত্রাতিরিক্ত বিষ ক্রিয়া সম্পন্ন আর্সেনিক। ৫ টি নমুনা পাওয়া গেছে ক্রোমিয়াম হলুদে ও গুড়ায় ৩০ টি নমুনায় ছিল সিসা ও অন্যান্য ধাতু। লবণে সহনীয় মাত্রার চেয়ে ২০-৫০ গুণ বেশি সিসা পাওযা গেছে। মুরগীর মাংসে ও মাছে পাওয়া গেছে মানুষের শরীরের জন্য এন্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব। এছাড়া কয়েকটি প্যাকেটজাত জুসের নমুনায় পাওয়া গেছে বেনজায়িক এসিড, যা স্বাস্হ্যর জন্য চরম বিপদজনক। অতিমাত্রায় কীটনাশক ক্যামিক্যাল রং ব্যবহার বেশিরভাগ খাদ্যে পণ্যে যা স্বাস্হ্যের ঝুঁকিপূর্ণ। দেশে সর্বত্র ভেজালের সমাহার জরুরী ভিত্তিতে ভয়ংকর অপরাধীী কারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার এখনিই সময়।