খুলনায় ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস পালিত

133

কেএম মাকছুদুর রহমান, খালিশপুর থানা প্রতিনিধি

খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার(১২ ডিসেম্বর) সকালে খুলনা সার্কিট হাউজ সংলগ্ন শেখ রাসেল ইন্টারন্যাশনাল টেনিস কমপ্লেক্সে আলোচনা, সেমিনার এবং প্রযুক্তির সহায়তায় নারীর ক্ষমতায়ন প্রকল্পের প্রশিক্ষনার্থীদের সনদপত্র বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ড. মুঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার। দিবসটি পালনে এবারের প্রতিপাদ্য ছিলো- ‘সত্য-মিথ্যা যাচাই আগে, ইন্টারনেটে শেয়ার পরে’। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ড. মুঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, প্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্ব আজ মানুষের হাতের মুঠোতেই কেবল নয় বরং আঙ্গুলের ডগায় চলে এসেছে। বিশ্বময় ঘটে যাওয়া এই অগ্রগতি হতে পিছিয়ে পড়লে চলবে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ঘোষিত রূপকল্প-২০২১ এর মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ ভাবনাকে তুলে ধরেছেন এবং তার সুযোগ্য সন্তান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এর পরামর্শে দেশের প্রযুক্তি খাতে এমন জাদুর ছোঁয়া লেগেছে। তিনি আরো বলেন, দেশের আট হাজারের বেশি বিদ্যালয়ে ডিজিটাল ল্যাব বসেছে। ২৮টি হাইটেক পার্ক স্থাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এই খাতে প্রায় ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের বিকাশে বিদেশ নির্ভরশীলতা কমাতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করা হয়েছে। প্রযুক্তির নেতিবাচক ব্যবহারের মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ নষ্ট না করার আহ্বান জানিয়ে আনোয়ার হোসেন বলেন, ডিজিটাল মাধ্যম ও তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার করলে সম্ভাবনার অপমৃত্যু ঘটবে। প্রযুক্তি যেন আমাদের পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে। সামাজিক যোগাযোগ সাইটে ফেক-আইডি ও ক্লোন মোবাইল সিমের মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপতৎপরতা বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল আসক্তি পরিহার করে সৃজনশীলতার চর্চা বৃদ্ধি করতে হবে। খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলাম, খুলনার পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালক ডা. সৈয়দ জাহাঙ্গীর। এর আগে সকালে দিবসটি পালন উপলক্ষে নগরীর শহীদ হাদিস পার্ক থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে শেখ রাসেল ইন্টারন্যাশনাল টেনিস কমপ্লেক্সে এসে শেষ হয়।