আজ শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশার দাপট দেশের আরও কয়েকটি জেলায় ছড়িয়ে পড়তে পারে

125

নেপাল থেকে ভারতের বিহার হয়ে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘন কুয়াশা ছড়িয়ে পড়েছে। এই কুয়াশার সঙ্গে দেশের সাতটি জেলা রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ,  কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশা থাকতে পারে আরও দুই দিন।

ঘন কুয়াশার কারণে দুই দিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বেশির ভাগ এলাকায় সূর্যের আলো ভূমিতে পৌঁছাচ্ছে না। এর ফলে তাপমাত্রা দুই দিনের ব্যবধানে চার থেকে আট ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে গেছে। তীব্র শীতে কষ্ট পাচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ, আবার মাঠের ফসলের জন্য বিপদ ডেকে এনেছে ঘন কুয়াশা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আজ শুক্রবারের মধ্যে শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশার দাপট দেশের আরও কয়েকটি জেলায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গিয়ে শীতের দাপট আরও বাড়তে পারে। শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে ও নদীতীরবর্তী এলাকায় ঘন কুয়াশা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে দেশের সড়ক ও নৌপথে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মাঠে থাকা বোরো ধানের বীজতলা, আলু ও সরিষার চারা কুয়াশার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসায় শীতের অনুভূতি আগামী দু-তিন দিন বেশি থাকবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গায় ৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া রাজশাহী, ঈশ্বরদী, কুড়িগ্রাম ও যশোরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ৯ ডিগ্রি সেলিসিয়াসের মধ্যে ছিল। এসব এলাকায় তীব্র শীতের দাপটে মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এদিকে মাঠের ফসল রক্ষায় কৃষি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বোরো ধানের বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখে ও রাতে সেচ দিয়ে ভোরে সেই পানি সরিয়ে ফেলতে। এ ধরনের আবহাওয়ায় ধানে পোকার আক্রমণ ও আলুতে রোগ রোগ দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বলেন, আগামী দুই দিন দেশের বেশির ভাগ জেলায় তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়বে। তবে মাসের শেষের দিকে আরেকটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।