ফুলতলার এক বৃদ্ধা হাজেরার গল্প, না খেয়ে থাকেন বেশিরভাগ সময়, কেউ নেয় না এই বৃদ্ধার খবর

358
  • “যেখানে কিনা দিনের আলোতে ঢুকতে মানুষের ভয় লাগে, সেখানে দিন পর দিন কাটাচ্ছেন হাজেরা”
  • “তিন বেলা ডাইল ভাত ও খেতে পারি না বিদ্যুৎতের বিল দিবো কোথা থেকে”
মো আল আমিন খান, (সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার)
অভাব অনাটনের মধ্য দিয়ে কোন রকম ভাবে জীবন চলছে ফুলতলার হাজেরা বেগম । এমন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় ফুলতলার নতুনহাটে দামোদর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বামুন পাড়ায় স্থায়ী বাসিন্দা দীর্ঘদিন যাবৎ বাগানের ভীতরে কোন রকম ভাবে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন হাজেরা বেগম (৭৫)। যেখানে কিনা দিনের আলোতে ডুকতে মানুষের ভয় লাগে সেখানে দিন পর দিন কাটাচ্ছেন হাজেরা। জীবন দর্শায় কি ঘটেছিলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার স্বামী শরিতুল মোল্ল্যা দেশ স্বাধীন হওয়ার কিছুদিন পর মারা যায়। পরিবারের সদস্য বলতে ছিলো এক ছেলে ও এক মেয়ে তারা কেউ আর এই বৃদ্ধা মাকে দেখেন না।  এক বেলা খান তো অন্য বেলা না খেয়ে থাকেন এই হাজেরা বিভিন্ন অসুখে আক্রান্ত সামান্য ঔষধ কিনে খাবার মতন অর্থ ও নেই তার কাছে, বহু কষ্টে ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্ট করেছিলেন তিনি কিন্তু অভাবের তাড়নায় ওষুধ আর কেনা হয়ে উঠেনি, নিজস্ব একটুকু জমি বলতে কিছুই নেই তার
এখানেই শেষ নয় হাজেরা ঘরের প্রতিটা টিন ফুটা কাঁচা মাটির ঘর টিন যাতে বাতাসে উড়ে যেতে না পারে সেজন্য প্রতিটা টিনের কোনায় পানি ভর্তি বোতল বেধে রেখেছে। বর্ষার মৌসুম আসলেই পানিতে তলিয়ে যায় তার মাথার উপর সামান্য টুকু আশ্রয় কেন্দ্র।
প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদা ও দারিদ্র ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকলেও নেই হাজেরার বাড়িতে অন্ধকারে বাঁশ বাগানের ভীতর থাকতে হচ্ছে তাকে। বিদ্যুৎ না থাকার কারন জানতে চায়লে তিনি অশ্রুভেজা চোখে বলতে থাকেন তিন বেলা ডাইল ভাত ও খেতে পারি না বিদ্যুৎতের বিল দিবো কোথা থেকে।
দামোদর বামুন পাড়ায় স্থায়ী বাসিন্দা মামুন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এখানেই হাজেরা থাকেন কিন্তু তার দিন কাটে বেশিরভাগ সময় না খেয়ে। টাকার অভাবে ঔষধটুকু কিনে খেতে পারে না দিনে বেশির ভাগই সময় পানি খেয়ে দিন কাটাচ্ছে তিনি কিন্ত তাতে কি আর পেটের ক্ষুদা মেটে।
এই বিষয় নিয়ে কথা হয় ফুলতলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিনের সাথে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলো না, আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম সরকার ভূমিহীনদের ঘর দিচ্ছে প্রথম দফার তালিকা পাঠানো হয়ে গিছে এর পরে যদি কোন সুযোগ আসে আর হাজেরা বেগমের যদি নিজস্ব কোন জায়গা থাকে তাহলে আমরা তাকে সরকারী ভাবে ঘর পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিবো। কিন্ত গরিব অসহায় মানুষের জন্য সরকারী বিভিন্ন অনুদান থাকে সেইটা অবশ্যই পাবে এ বিষয়ে আমি লোক পাঠিয়ে সরকারী অনুদান পৌছে দেওয়ার চেষ্টা করবো।
দামোদর ২নং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিপলু ভূইয়া বলেন, যেহুতু সে গরিব মানুষ অবশ্যই সে পাওয়ার যোগ্যতা রাখে। আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করবো যাতে করে সরকারী সুযোগ সুবিধা পায় সে। এই বিষয়ে অবশ্যই খেয়াল রাখা হবে।
এলাকাবাসীর এখন একটা দাবি হাজিরা বেগম এই বৃদ্ধ বয়সে কাজ করে খাওয়ার কোন ক্ষমতা তার নেই। সরকারীভাবে গরিব অসহায়দের জন্য যে অনুদান আসে সেইটা যেন হাজিরা বেগম পায় তাহলে হয়তো দুমুঠো ডাল ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবে। এটি এখন সময়ের দাবি নয় বরং পুরো এলাকাবাসীর দাবি।