দিঘলিয়া ভূমি অফিসে সিসি ক্যামেরার সামনেই ঘুষ লেনদেন (অনুসন্ধানী ১)

110

আবু হামজা বাঁধন, ডেক্স রিপোর্ট।।

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের  হেড ক্লার্ক আজিজের নিজ অফিস কক্ষ মনিটরিং করছে ২টি সিসি ক্যামেরা। এর পরেও বীরদর্পে ঘুষ বানিজ্য চালিয়ে আসছে এই অফিস সহকারি (বড় বাবু) আজিজ। সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রন বা সরাসরি ভিডিও দেখা যায় এসি ল্যান্ড বা ইউএনও এর কক্ষ থেকে। তারপরেও কোন শক্তিতে বলীয়ান হয়ে এই অফিস সহায়ক দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে ঘুষ বানিজ্য দীর্ঘ দিন চালিয়ে আসছে তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেলা ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে কিলারিক্যাল মিসটেক (করণিক ভুল) কেস নিয়ে আগত রবিউল ইসলাম (২৮) আজিজের দাবিকৃত চার হাজার টাকা মধ্যে ২৫শত টাকা দিচ্ছেন । এর আগে ১৫শত টাকা অগ্রিম দিতে হয়েছে এই অফিস সহকারীকে। তথ্যমতে মাত্র ১১৫০ টাকা সরকারিভাবে খরচ হয় এই ভূল সংশোধনীতে। তারপরেও আজিজের কাছে যদি কেউ কিলারিক্যাল মিসটেক কেস নিয়ে আসেন সরাসরি ৪হাজার থেকে ৬হাজার টাকার মধ্যে দফারফা করেন অফিস সহকারি আজিজ।

এরপর এ প্রতিবেদক একজন সেবা প্রত্যাশী হিসেবে আজিজের রুমে গেলে তাঁর কাছেও ৫হাজার টাকা দাবি করেন কিলারিক্যাল মিসটেক কেসের জন্য। এখানেই শেষ নয়, আজিজের ঘুষ বানিজ্যের গল্পের। যে সকল জায়গা জমির কাগজে ঝামেলা থাকে, সেই জমির মিউটেশন এর বিষয় আজিজ ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান।

 এদিকে খুলনা শহরের প্রাণ  কেন্দ্রে অর্থাৎ  সোনাডাঙ্গায় আজিজের একটি তিন তলা বাসভবন রয়েছে। নামে বে নামে সম্পত্তির গড়ে  তোলার বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া  গেছে। দিঘলিয়া এ ভূমিসে শুধু আজিজ নয়, আরো কিছু অসাধু কর্মচারি রয়েছে যারা নিয়মতই ঘুষ বানিজ্যে পুটু। তবে এ অনুসন্ধানী রিপোর্টে রহস্যের কড়া নামে দিঘলিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের প্রতিটি কর্নার সিসি ক্যামেরা দ্বারা আবৃত্ত। তারপরেও প্রতিদিনই খুবই স্বাভাবিক ভাবে ঘুষের বানিজ্য চলে। অনেকেই জানেন এ ঘুষ বানিজ্যের রুটিন মাফিক দৃশ্যের হালহকিকত। তারপরেও কেউই মুখ খুলতে চাই না এ বিষয়।

 এ বিষয়টি নিয়ে আজিজের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি অন্যায় করেছি, তবে আপনাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করব না।

এসি ল্যান্ড দিঘলিয়ার সাথে মুঠোফোনে  যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁর  সাথে এ রিপোর্ট  লেখা পর্যন্ত সময়  যোগযোগ করতে পারা যায়নি।

আগামী অনুসন্ধানী রিপোর্টে আজিজের দূর্নীতির বিস্তারিত ফিরিস্তি আসছে…