বিএনপি’র সমাবেশে পুলিশের বাধা সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ, শতাধিক নেতাকর্মী আহত

প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে

61

প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে নেতাকর্মীদের রাস্তা থেকে উঠিয়ে দেয়। দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলার সময় ইটপাটকেল ছুড়তে দেখা যায়। পুলিশের হামলায় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে বিএনপি দাবি করেছে। অন্তত ২৫ জনকে আটকের তথ্য দিয়েছে দলটি। পুলিশ বলছে সড়ক থেকে নেতাকর্মীদের সরাতে গেলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের ছোড়া ইটের আঘাতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপি’র সমাবেশ চলাকালে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

তার বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই সমাবেশের পিছন থেকে নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ বলপ্রয়োগ শুরু করে।

ফুটপাথের ওপর সমাবেশ মঞ্চের সামনে এসে বক্তৃতা বন্ধ করতে বলেই লাঠিপেটা শুরু করে পুলিশ সদস্যরা। নেতা-কর্মীরা তখন তোপখানা রোড, জাতীয় প্রেস ক্লাবের ফটক ডিঙিয়ে পালাতে থাকে। বিএনপিকর্মীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। নেতাদের কাউকে কাউকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের দেয়ালের ফাঁক দিয়ে ভেতরে আশ্রয় নিতে দেখা যায়।

লাঠিপেটায় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, সহ-তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আমিরুজ্জামান শিমুল, তিতুমীর কলেজের সাবেক ভিপি হানিফ, ঢাকা মহানগর উত্তর সিনিয়র সহ-সভাপতি মুন্সী বজলুল বাসিত আঞ্জু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম নকী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক সরদার নুরুজ্জামান, কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সফিকুল ইসলামসহ ছাত্রদল উত্তর নেতা সাজ্জাদ হোসেন রুবেল, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোর্শেদ আলমসহ অনেকে আহত হন। এদিকে যুবদল কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জাকির সিদ্দিকী, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার ভূঁইয়া রুবেল, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল্লাহ নাঈম, সহ-সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন নাঈম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জহির মাঝি, আনোয়ার হোসেন এবং হরেন, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের এবাদুল বেপারী, নাদিম হোসেন, হিরণ, মো. আজিজ, মো. রুবেল, ইরান, সুমন, রাহাদ, সজিব, আলামিন, জয়, মো. রফিকসহ ২৫ জনের অধিক নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে বিএনপি।

এ ঘটনায় শনিবার বিকালে নয়াপল্টনস্থ বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি’র সভা-সমাবেশে মানুষের ঢল দেখে সরকার দিশাহারা, তাই সরকার লাঠির ভাষায় জবাব দিতে চাচ্ছে। জাতি মাফিয়া রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে শুরু করেছে। হঠাৎ করেই সরকারের পতনের খবর পাওয়া যাবে।

সংঘর্ষের বিষয়ে রমনা জোনের পুলিশের এডিসি হারুনূর রশীদ জানান, বিএনপি’র কর্মসূচি উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রেস ক্লাবে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সমাবেশ চলাকালে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশ দায়িত্ব পালন করছিল। তিনি দাবি করেন, বিএনপি’র নেতাকর্মীরা হঠাৎ পুলিশের ওপর চড়াও হয়। পরে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এ সময় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের ২ জন সদস্য আহত হয়েছে।

পুলিশ বিএনপি’র ওপর প্রথম লাঠিপেটা শুরু করেছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তাদের তথ্য সঠিক নয়। তারাই পুলিশের ওপর প্রথম চড়াও হয়েছে। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তারা বিশৃঙ্খলা করবে এমন কোনো আগাম তথ্য আমাদের কাছে ছিল না। ঘটনাস্থল থেকে ৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি মো. মামুন অর রশীদ জানান, সমাবেশ চলাকালে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলে পড়ে। পরে পুলিশ অ্যাকশনে যায়। তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়েছে। বিএনপি’র নেতাকর্মীদের ছোড়া একটি ইট তার পায়ে লেগেছে। এ ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের রোববার আদালতে হাজির করা হবে।
এদিকে, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানা গেছে।

সংঘর্ষের আগে প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সেক্টর কমান্ডার ছিলেন জিয়াউর রহমান। যিনি মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করলেন, তার খেতাব কেড়ে নেবেন? এ অধিকার সরকার বা কারোরই নেই। তিনি বলেন, সরকার এখন কাউকে নতুন করে খেতাব দেয়ার ক্ষমতা রাখে না। তাই কারও খেতাব কেড়ে নেয়ার ক্ষমতাও তাদের নেই। স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, যাদের পিতার প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা নেই, তারাই এ ধরনের ঘৃণ্য কাজ করতে পারে।