যশোরের গদখালী এখন ফুলের জমজমাট ব‍্যবসা

68

উৎপল ঘোষ 
চলতি বছরের ন‍্যায় এ  বছর আবারও জমে উঠেছে যশোরের গদখালী ফুলের রাজ‍্য। এখানে ভ্রমণ করলে বোঝা যায় হরেক রকমের ফুলের সমারহ।মানভেদে বর্তমানে প্রতিটি গোলাপ এখন পাঁচ থেকে আট টাকায় বিকিকিনি হচ্ছে যা কিছুদিন আগে মাত্র ‘৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা বিক্রি হতো।একইভাবে  প্রতিটি ফুলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।এখন প্রতিটি রজনীগন্ধা ৫ – ৬টাকা,জারবেরা ৮ -৯ টাকা,গ্লাডিওলাস ৫ -১০টাকা এবং প্রতি হাজার গাঁদা ফুল ৩০০ – ৩৪০ টাকা বিকিকিনি হচ্ছে।
‌গদখালী মোকামে চলতি সপ্তাহে ফুলের বিকিকিনি চলবে এমনটা আশা করেন এলাকার স্থানীয় ফুল চাষীরা।এলাকার চাষীদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, সামনে আমাদের বেশ কিছুদিন সময় রয়েছে।২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস। এ সব উৎসব উপলক্ষে গদখালীর ফুলের চাষী ও ব‍্যবসায়ীরা গত বছরে করোনা ভাইরাস ও ঘুর্ণিঝড় আম্পানের কারণে যে ভয়াবহ যে ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন তা পুষিয়ে নিতে পারবেন এমনটাই আশা করছেন।
‌গদখালী এলাকার পটুয়াপাড়া গ্রামের ফুলচাষী আলমগীর জানান,গত বছর বিশ্ব ভালবাসা দিবস ও পয়লা ফাল্গুন উপলক্ষে প্রায় আড়াই লাখ টাকার গোলাপ ও গ্লাডিওলাসসহ অন‍্য ফুল বিক্রি করেছিলাম।তবে চলতি অর্থ বছরে কত টাকার ফুল বিকিকিনি করতে পারবেন তা নিয়ে অবশ‍্য শঙ্কায় আছেন তিনি। কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন,চলমান করোনা পরিস্থিতিতে দেশে সামাজিক অনুষ্ঠান দেশে ব‍্যপকহারে কমেছে। অন‍্যান‍্য চাষীরাও ফুল বিক্রি হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে  রয়েছেন।
‌বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির (বি এফ এস) কেন্দ্রীয় সভাপতি রহিম বলেন,গত বছর ইংরেজি বর্ষবরণ,পয়লা ফাল্গুন, বিশ্ব ভালবাসা দিবস ও বাংলা বর্ষবরণ বছরে ছয়টি অনুষ্ঠান ঘিরে যশোরের গদখালী অঞ্চলের কৃষকেরা অন্তত প্রায় ৫০ কোটি টাকার ফুল বিকিকিনি করেন। করোনা পরিস্থিতির শিক্ষা -প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় গত বছরের মতো এ বছর ফুল ততটা বিকিকিনি ভাল হবে না।তারপরও ফুলের চাহিদা ভাল থাকলে আমরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব বলে আশা করছি।
‌করোনা পরিস্থিতিতে সরকার গত বছর লকডাউন ও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় কয়েক মাস সারাদেশ অবরুদ্ধ ছিল।ঐ সময়ে প্রায় সব অনুষ্টান বন্ধ ছিল।যার প্রভাব পড়ে ফুল চাষী ও ব‍্যবসায়ীর মধ্যে।তৎকালীন সময়ে তেমন ফুল বিক্রি না হওয়ায় অনেক ফুল চাষীরা তাদের ক্ষেতের পরিচর্যা বন্ধ রাখার ফলে অনেক ফুলের ক্ষেত নষ্ঠ হয়েছে।
‌গদখালী হাড়িয়ার দরিদ্র কৃষক মোখলেছুর বলেন, এই অঞ্চলে প্রথম বারের মতো আমি গত বছর চীনের লং ষ্ঠিক রোজ জাতের গোলাপ ফুলের চাষ শুরু করেছিলাম।কিন্তু দেশে করোনা পরিস্থিতিতে ফুল বিক্রি হয়নি। যার কারণে আমার ফুলের ক্ষেত ছেড়ে দিয়েছিলাম। এতে ২৫ শতাংশ জমির গোলাপ ফুল গাছ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। তারপরেও এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে হরেক রকমের ফুল দিয়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ফুল বিক্রি হবে বলে আশা করছি।গত সপ্তাহে আমি প্রায় এক লাখ টাকার ফুল বিক্রি করেছি।
‌ফুল চাষের জন‍্য যশোর ঝিকরগাছা উপজেলা গদখালী এলাকার দেশ জুড়ে সুনাম সুখ‍্যাতি রয়েছে।সেখানে ফুটে রয়েছে  গোলাপ,গাঁদা,গ্লাডিওলাস,রজনীগন্ধা ও জাররেবা ফুলের সমারহ।প্রতিবারের মতো এবারও গদখালী এলাকার পটুয়াপাড়া, হাড়িয়া,পানিসরা,লাটুয়াপাড়া ও ফুলসারাসহ কয়েকটি গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,কয়েকটি গ্রামে প্রচুর পর্যটকদের সমাগম ঘটছে।তারা ফুলের বাগানের সঙ্গে রাস্তার দুই ধারে গড়ে ওঠা দোকানগুলো থেকে সাধারণ ও ব‍্যবসায়ীরা ফুল কিনে নিয়ে যান।অনেকে আবার এখানে এসে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোষ্ঠ করেন।এতে পর্যটকদের আগমন বাড়ায়। এতে এলাকায় অনেক রেস্তেরাঁ ও সুন্দর চায়ের ষ্ঠলসহ অন‍্যান‍্য দোকানও গড়ে উঠেছে। এখানে যশোরের জামতলার বিখ‍্যাত মিষ্টি সমারহ হওয়ায় পর্যটকরা আবার কিনেও নিয়ে যায়।
এদিকে পর্যটকদের যাতে কোন সমস্যা না হয় সে জন্য বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটি (বি এফ এস ) থেকে কয়েকজন স্বেচ্ছা সেবক নিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের পরিচয় পত্র গলায় ঝুলিয়ে ও বাঁশি বাজিয়ে ছুটেন তারা।সহায়তা করেন সার্বক্ষণিক পর্যটকদের।