অভয়নগরে নির্যাতিত এক গৃহবধু বিচারের জন‍্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন

95

উৎপল ঘোষ( ক্রাইম রিপোর্টার) যশোরঃ
যশোর অভয়নগর উপজেলার ভৈরব নদের উত্তর – পূর্ব জনপদের নির্জন পল্লী এলাকার ৭নং শুভরাড়া ইউনিয়নের বাসুয়াড়ি গ্রামের আব্দুল আলিম সরদারের স্ত্রী ফাতেমা বেগম,দুই মেয়ে মুনিয়া ও এক আনসার সদস‍্য‍সহ তার দোশরদের নির্যাতনের শিকার হয়ে বিচারের জন‍্য দীর্ঘদিন দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।নিরুপায় হয়ে অবশেষে অভয়নগর থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।
দায়েরকৃত এজাহারে মুনিয়া খাতুন(১৮)উল্লেখ করেছেন,গত বছর১২ জুন২০২০ইং  রাত ৮.৩০ঘটিকায় বসত বাড়িতে পুর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠিসোটা,ধারালো দা ও লোহার রড নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বেদম মারপিঠ,মাথায় দায়ের কোপ দিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম ও আমার মা ও বড় বোনকেও বিভিন্ন স্থানে ফোলা জখমসহ হাত ভেঙ্গে দিয়ে গৃহে থাকা টাচ মোবাইল,ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর সহ ফ্রিজ,টেলিভিশন,স্বর্ণের চেইন,কানের দুল,আংটি ও নগদ ৫০,০০০টাকা লুটপাট করে প্রতিবেশি আজিজ সরদারের লুৎফর রহমান ওরফে নুকু(৪৫),(আনসার সদস‍্য)কালাম সরদারের ছেলে হাফিজুর রহমান সরদার (৩০),বাবু সরদারের ছেলে কামরুল সরদার (২৭),জুলফিকার সরদারের ছেলে মনিরুল   অভিযোগ করি।কিন্তু তাৎক্ষণিক ব‍্যবস্থা গ্রহণ না করায় আমরা অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ‍্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়ে গত ১৪ জুন ২০২০ ইং আমার কণ‍্যা মুনিয়া খাতুন (১৮) বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করে।যার নং- ১৩ তারিখঃ ১৪/০৬/২০২০ইং। ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৪২৭/৩৮০/৫০৬, পেনাল কোড – ১৮৬০।

চলমান মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন‍্য আসামীপক্ষ নিজেরা বাঁচার জন‍্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে মরিয়া হয়ে উঠে আসামিরা নিজেরা আড়ালে থেকে অন‍্য লোকজন দিয়ে  এলাকাবাসীর কাছ থেকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে,লুৎফর রহমান নুকুর চাকরি সমস‍্যা, দিঘীর পাড়ের কমিটি গঠন তৈরি, প্রাথমিক বিদ‍্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তির প্রলোভন, ১০ -১৬ বছরের নাবালক শিশুদের চাউল দেবে বলে,আবার অনেকে স্বাক্ষর করিনি এমনও অভিযোগ রয়েছে। গণস্বাক্ষর সম্বলিত অভিযোগে যে নাম রয়েছে অধিকাংশ আসামীদে সন্তান,স্ত্রী,কণ‍্যা,পিতা,ও আত্নীয় -স্বজনদের নাম   সংগ্রহ করে যশোর জেলা প্রশাসক দপ্তরে মাধ‍্যম ‘ক’ জন গ্রামবাসি দিয়ে বাদি পক্ষের প্রতারক চক্র,অসামাজিক কর্মকাণ্ড করে বলে বিচার চেয়ে অভিযোগ করে।
তথ‍্যনুসন্ধানে জানা গেছে,গণস্বাক্ষরে যাদের নাম ও স্বাক্ষর দেয়া আছে তাদের অধিকাংশ স্বাক্ষর জাল বা নকল করা হয়েছে।এমনকি বাদী মুনিয়ার ভাই লাদেন হোসেন হৃদয়ের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।গণস্বাক্ষরে অবলা শিশুদের উপবৃত্তি টাকা,চালের লোভ দেখিয়ে অনেক শিশুকে স্বাক্ষর করানো হয়েছে বলে শিশুদের অভিযোগ।এ ব‍্যাপারে কমপক্ষে ২৫ জন সন্দেহভাজন স্বাক্ষরকৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে মফিজুর বলেন,আমি গত ৬ মাস যাবৎ বাড়িতে ছিলাম না।আমার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।শিক্ষক জি এম নাজমুল হোসেন বলেন,গণস্বাক্ষরে আমি কোন স্বাক্ষর করিনি।ঐ এলাকার মুদি ব‍্যবসায়ী মফিজুর সরদারের সঙ্গে মুঠো ফোনে ০১৯১৫ -৫৪০২৩৬ যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমি কোন কিছুই জানিনা ও স্বাক্ষর করিনি।আমার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।বাসুয়াড়ি মসজিদের ইমাম শফিকুল ইসলাম ওরফে পেশ ইমাম ০১৫৭১ – ১৫৫০৭৩ নং মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,যশোর জেলা প্রশাসক দপ্তরে গ্রামবাসীর পক্ষে যে গণস্বাক্ষর দেওয়া হয়েছে সে স্বাক্ষর আমার নয়,আমার স্বাক্ষর জাল -জালিয়াতি করা হয়েছে।বাসুয়াড়ি মাদ্রার শিক্ষক মোঃ মনিরুল ইসলাম ০১৭১৮-৮৬৮৭২৬  মুঠোফোনে অভিযোগের স্বাক্ষর দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন,অভিযোগে আমি কোন স্বাক্ষর করি নাই।তাছাড়া ভাই ভাই এর মধ্যে বিরোধ।একই এলাকার আবু সুফিয়ানের০১৯১৭-৭৬৬৭২৬.নং মোবাইলে মুঠোফোনে স্বাক্ষর দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,স্বাক্ষর আমি দিয়েছি আমাকে বলেছে, মামলা নিস্পত্তি নিয়ে বৈঠক আছে তাই আমি স্বাক্ষর করেছি।স্বাক্ষর করাইতে কে আসছিল এ বিষয়ে তিনি বলেন,মামলার আসামী হাফিজুর।মুক্তিযোদ্ধা শুকুর আহমেদ ০১৭৪৫-১৪৮৬৭২নং মুঠোফোনে জেলা প্রশাসক দপ্তরে অভিযোগের স্বাক্ষর সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি উত্তরে বলেন,মীমাংসা করবে বলে আমাকে বলেছে তাই আমি স্বাক্ষর করেছি।কিন্তু এটা যে জেলা প্রশাসক দপ্তরে দিবে সে সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা।এভাবে অনেকেই বলেছেন এ স্বাক্ষর আমাদের না।৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস‍্য ইদ্রিস বলেন,আমি স্বাক্ষর করিনি।সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস‍্য সুফিয়া এর নিকট স্বাক্ষর করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,স্বাক্ষর আমি করেছি।যেখানে পরিষদের চেয়ারম্যান করেছেন তাই আমি করেছি।অভিযোগে কী ধরণের কথা লেখা আছে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন,লেখা আমি পড়ি নাই।ইউপি চেয়ারম্যান ০১৭৩৪-৩০০৪৩২ মুঠোফোনে জনাব রাজ্জাক বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,দুই পক্ষ কেউ ভালো না।অনেক আগে আলিম সরদারের বিবাহিত মেয়েকে নিয়ে একটা শালিশ করেছিলাম।অভিযোগের বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি লোকমুখে শুনেছি কিন্তু ঘটনার সত‍্যতা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।
মামলার বাদী ও আলিম সরদারের স্ত্রী সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন,মামলা দায়ের করার পর থেকে আসামীরা মধ‍্যরাতে বাড়ির টিনের চালে ইট নিক্ষেপ,বাথরুমের পানিতে ঝাঁলের গুঁড়া দেয়া সহ অকথ‍্য অশ্রাব‍্য ভাষায় গালিগালাজ করে আসছে।এ অবস্থায় আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছে।আমাদের বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।ন্দ্রত সময়ের মধ্যে আনসার সদস‍্য লুৎফর রহমানসহ আসামিদের বিচারপূর্বক দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করছি।
এলাকার সচেতন মহল বলেছেন,গণস্বাক্ষরে যে স্বাক্ষর তা অধিকাংশ জাল-জালিয়াতি।সরেজমিনে এলাকায়এসে প্রত‍্যেকের স্বাক্ষর সঠিক কিনা যাচাই বাচাই সহ এবং অভিযোগ সত‍্যতা নিশ্চিত করে আইনগত ব‍্যবস্থা গ্রহনের জন‍্য এলাকার বিজ্ঞমহল উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।