জ্বীনের বাদশা এখন ডুমুরিয়া, সর্বশান্ত অনেকেই

111
 স্টাফ রিপোর্টার
দীর্ঘদিন যাবত ডুমুরিয়া গুটুদিয়ায় কোমলপুর গ্রামে মৃত মতিয়ার রহমান শেখ এর ছেলে মালেক শেখ (৫৫) নিজেকে জ্বীন বাবা বলে সাধারন সহজ সরল লোকদের বোকা বানিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। মালেক নাকি আসনে জ্বীন ডাকতে গেলে তাকে দিতে হয় প্রতিরাতে এক হাজার করে টাকা। এমন কি তার সাথে নাকি ওনেক গুলো জ্বীন আছে তাদের দ্বারা কোন তদবির করাতে হলে কিংবা এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে তদবির পৌছে দিয়ে আসলে জ্বীনকে দিতে হয় আলাদা টাকা।এছাড়া সাম্প্রতিক নাকি জ্বিনের বাদশা ডুমুরিয়া উপজেলায় মেহমান হিসেবে এসেছেন বলে প্রচার করছে মালেক শেখ।
 মালেকের মৎস ঘেরে ছোট একটি ঘর আছে। দিনের আলোতে মালেক কৃষিকাজ করলেও রাতের অন্ধকারে বসে রুগি দেখার মেলা।  কিছুদিন এভাবে চলতে থাকে তারপর মালেক পুলিশের কাছে ধরা খাওয়ার ভয়ে স্থান পরিবর্তন করে কখন নিজ শশ্বড় বাড়ি, কখন আবার ঘেড়ের ভীতর আবার নিজ এলাকা ছেড়ে ডুমুরিয়া, খুলনা, যশোর, বাগেরহাট, সোনাডাঙ্গা, সহ বিভিন্ন জায়গা গুলোতে রুগি দেখে জ্বীনের মাধ্যমে। মালেক  আবার কিছু পৌষ্য  দালাল আছে তারাই মালেক কে রুগি যোগান দেয় এবং মটর বাইকে করে আনা নেওয়া করে থাকে। রুগিদের সাথে কন্ট্রাক্ট থাকে মোটা অংঙ্কের টাকা সহ রাতে খাবার খাওয়া এবং থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। টাকা দিলেই সব মুশকিল আছান। এমবিবিএস ডাক্তার কেউ যেন হাড় মানায় এই ভন্ড জ্বীন মালেক। সন্ধ্যা নামতেই মালেক এর জন্য রেডি থাকে মটর বাইক যাতে করে তার চলাচলে সুবিধা হয়। গোপন সূএে জানা যায়, শুধু তায় নয় ঘরের লাইট বন্ধ না করলে জ্বীন নাকি হাজির হয় না অন্যদিকে ওই ঘরে কখন উক্তি বয়সী তরুন- তরুনী সহ মহিলা ও পুরুষ অন্ধকারে একই ঘরে থাকে। যে কোন সমস্যার জন্য এই ভন্ড কবিরাজ মালেকে টাকা দিলে সব সমস্যার সমাধান মেলে।  বেশিরভাগ ই তরুন ছেলে মেয়েদের আগমন থাকে।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, আমি আমার পারিবারিক কাজের জন্য মালেক কে বারো হাজার টাকা দিছি কিন্তু আমার কাজ হয় নি চোখ লজ্জায় কাউকে বলতে পারি নায়। এমন ও হাজার লোক আছে যাদের সাথে প্রতারণা করছে মালেক তারা অনেকেই ভয়ে কিছু বলতে পারে না। জনমনে প্রশ্ন কোন খুটির জোড়ে মালেক বছরের পর বছর তার এই ভন্ডামি চালিয়ে যাচ্ছে।
এই বিষয় নিয়ে কথা হয়, ডুমুরিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো আব্দুল ওয়াদুদ এর সাথে তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি দেখার জন্য চেয়্যারমান কে দায়িত্ব দেওয়া হয়ছে প্রয়োজনে আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবো।
মুঠোফোনে কথা হয় গুটুদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো আবুল হাসান গাজীর সাথে, তিনি এ প্রতিবেদক কে জানান বৃহস্পতিবার ১১ ই মার্চ গ্রাম আদালতে মালেক কে ডাকা হয়, মালেক তার কর্মকান্ড অস্বীকার করতে পারেন নায়, ভন্ড মালেক নিজেই স্বীকার করছেন সে একজন তুলা রাশির লোক এবং তার উপরেই সে জ্বীন হাজির করতো। বিষয়টি কতটুকু আইন  সম্মত এই প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন এটা আসলে ভন্ডামি প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।
 যেখানে প্রমানিত হয় এবং মালেক নিজেই তার দোষ স্বীকার করছে সেখানে প্রমান করার আর কি বাকি থাকে। তাই স্থানীয় জনগন মনে করেন ভন্ড মালেক এর উপযুক্ত শাস্তি পাওয়া দরকার নয়তো ভবিষ্যতে আরো মালেক এর জন্ম হতে পারে। চেয়ারম্যান আরো বলেন, আমার কাছে যদি কোন ব্যক্তি যদি অভিযোগ করে তাহলে আমি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো। সবশেষে ভন্ড জ্বীনের বাদশা মালেক কে ইউনিয়ন পরিষধে মুসলিকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মালেক এই ভন্ডামির শাস্তি পাওয়া উচিত নয়লে নিজ এলাকায় না করলে ও অন্য জাগায় ঠিকই তার ভন্ডামির কর্মকান্ড চালিয়ে যাবে। তাই মালেক এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করার সাথে সাথে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় ডুমুরিয়া থানা সূএে জানা যায়, ভন্ড  জ্বীনের বাদশা মালেকের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে অভিযোগ দাখিল হয়েছে তদন্তের পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানা যায়।