খুমেক পরিচালক ডাঃ মঞ্জুর মোর্শেদের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির দাবি

190
মোঃ আল আমিন খান – সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
করোনা মোকাবেলায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই মুহূর্তে আইসিইউ শয্যা বৃদ্ধি, নতুন করোনা ইউনিট নির্মাণ ও লিকুইড অক্সিজেন প্লান্ট নির্মাণের কাজ চলছে। এছাড়া নন কোভিড রোগের ক্ষেত্রে, ১০০শয্যা বার্ন প্লাস্টিক, নেফ্রোলোজি, নিউরোসাইন্সসহ বিশেষায়িত অনেক বিভাগ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের মহাযজ্ঞ চোখে পড়ে হাসপাতালের এলাকায়। তবে এ সব কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই আগামী ২৯ এপ্রিল বিদায় নিতে যাচ্ছেন হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ। করোনা মহামারীর এই দুর্যোগকালে তাঁর নেতৃত্ব না পেলে বিভাগের একমাত্র করোনা হাসপাতাল পরিচালনা নিয়ে সন্দেহ সংশ্লিষ্টদের। এ পরিস্থিতিতে পরিচালকের চাকুরির মেয়াদ বৃদ্ধি করে অন্তত করোনা দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলা করে খুলনার মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন কর্মরত চিকিৎসক ও কর্মচারীরা। এর আগেও ডাঃ এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ হাসপাতালের প্রথমে তত্ত্বাবধায়ক ও পরে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তখনই রোগীদের মানসম্মত খাবার সরবরাহ, নতুন ইউনিট চালু, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে দালাল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এভাবে প্রথম দফায় দায়িত্ব পালনকালে ৩০টির বেশি পয়েন্টে হাসপাতালের সেবার মান বাড়িয়েছিলেন তিনি। এ সময় সেবারমান বৃদ্ধির কারণে বর্হিবিভাগে রোগীর সংখ্যা যেমন বেড়েছিলো তেমন আন্তঃবিভাগেও ভর্তি রোগী বেড়েছিলো অনেকাংশে। কিন্তু করোনার প্রকোপ শুরুতে নকল মাস্কের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য মিডিয়ায় বক্তব্য দেয়ায় তাকে বদলী করা হয়েছিলো পাবনার মানসিক হাসপাতালে। এরপর পানি গড়িয়েছে অনেক। নকল মাস্কের বিরুদ্ধে সাফাই গাওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সিএমএসডির মহাপরিচালকসহ বড় কর্তাদেরও ছাড়তে হয়েছে তাদের চেয়ার। তবে মাত্র নয় মাসের মাথায় আবারো ডাঃ এটিএমএম মোর্শেদকে নিজের চেয়ার ফিরিয়ে দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। দ্বিতীয় দফায় খুমেকের পরিচালক পদে যোগদান করেন গত ১১ জানুয়ারি। এবার তিনি হাসপাতালকে সেবার মানে তিনি করেছেন দেশ সেরা। সারাদেশের মধ্যে সরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে সেবার মানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এখন ১ নম্বরে। দিন-দিন এ পয়েন্ট আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা যায়, করোনার প্রথম ঢেউ অর্থাৎ গত বছরে আতঙ্কে হাসপাতালে আন্তঃবিভাগ এবং বর্হিবিভাগে সেবা সীমিত করা হয়েছিলো। সেখান থেকে জনবল নিয়ে নূরনগরে একশ শয্যা বিশিষ্ট করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল পরিচালনা করা হয়েছিলো, যেটি ছিলো বিভাগের একমাত্র ডেডিকেটেড হাসপাতাল। কিন্তু এবছর পরিস্থিতি ভিন্ন, হাসপাতালের আন্তঃবিভাগে রোগী ভর্তি থাকছেন প্রায় দেড় হাজার প্রতিদিন, বর্হিবিভাগেরও ১২শ-এর বেশি রোগী চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। এর মধ্যেই করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল স্থানান্তর করে খুমেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে সীমিত জনবল দিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ১০ বেডের আইসিইউ সেবা থেকে ৩০ বেড চালুর কাজ চলছে দ্রুত গতিতে, করোনা রোগীদের নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন সেবা দেয়ার জন্য লিকুইড অক্সিজেন পয়েন্ট স্থাপনের কাজ চলছে। নতুন আরও একটি করোনা ইউনিট নির্মাণের কাজ চলছে। এসব চলমান কাজের মধ্যে হাসপাতালের অভিভাবকের চলে যাওয়ার খবর মেনে নিতে পারছেন না অনেকে। চিকিৎসকরা বলছেন এই মুহূর্তে তার চলে যাওয়া হাসপাতালে করোনা যুদ্ধে মনোবল হারাবেন চিকিৎসকরা।হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডাঃ দেবনাথ তালুকদার বলেন, পরিচালক স্যার এই হাসপাতালের সেবায় আমূল পরিবর্তন করেছেন। প্রত্যেকটি সেক্টরে নিজের মত করে সাজিয়ে তা রোগী বান্ধব করেছেন। তার চলে যাওয়া হাসপাতালের জন্য অনেক ক্ষতি। বিশেষ করে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায়ও যদি তাকে পাওয়া যেত তাও অন্তত ভালো হত।
বিএমএ খুলনার সভাপতি ডাঃ শেখ বাহারুল আলম বলেন, ডাঃ মঞ্জুর মোর্শেদ হাসপাতালটিতে সেবা নিশ্চিত করেছেন। একটি পরিপূর্ণ রোগী বান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিনত করেছেন। বিশেষ করে করোনা সেবা দেয়া বিভাগের একমাত্র হাসপাতালটির নেতৃত্ব দিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি বজায় রেখেছেন তিনি। এই জরুরি পরিস্থিতিতে তার চাকুরির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হলে এতে হাসপাতাল ও খুলনার মানুষই উপকৃত হবে। হাসপাতালে পরিচালক ডাঃ এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, আমি ২০১৭ সাল থেকে এই হাসপাতালের সাথে আছি, নিজের জীবনের থেকেও এই প্রতিষ্ঠানকে বেশি ভালোবেসেছি। পরিচালক নয়, একজন সরকারি কর্মচারী হিসাবে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে জনগণকে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রতি পূরণে কাজ করেছি সবসময়, বর্তমানেও করে যাচ্ছি। করোনা পরিস্থিতিতে চর্তুমুখি চাপ মোকাবেলা করে দেশ সেরা বানিয়েছি এ হাসপাতালটিকে। কিন্তু প্রত্যেক চাকুরিরই একটি শেষ আছে। আমারও সামনে যাবার সময় হয়েছে। এখন সবাই এসে বলছে আপনি থাকেন, আমরা আপনার জন্য চেষ্টা করব। আমি সকলকে বুঝিয়েছি যিনি আসবেন নিশ্চয়ই আরও ভালো করবেন। তবে হাসপাতালের স্বার্থে, করোনা মোকাবেলায় আমাকে যে কোন দায়িত্ব সরকার দিলে আমার কষ্ট হলেও আমি তা পূরণ করব।