নর্থ খুলনা রিহ্যাবসের কার্যক্রম এখন প্রশ্নবিদ্ধ !

16

আবু দাউদ ইমরান।।
নর্থ খুলনা রিহ্যাবস (রিয়েল এস্টেট এন্ড হাউজিং বিজনেস সোসাইটি) দীর্ঘ দিন যাবৎ সংগঠনটির কার্যক্রম নিয়ে সদস্যদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাঁরা চায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ি রিহ্যাবসের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হোক। এই সংগঠনটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাজে ভূমিকা রাখার কথা। কিন্তু রিহ্যাবসের কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ উর্ত্তীণ হলেও নতুন কোন কমিটি গঠন করা হয়নি। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে খুলনা জয়েন্টস্টোক কোম্পানী থেকে নর্থ খুলনা রিহ্যাবস নামের এই সংগঠনটি নিবন্ধন হয়। যার রেজিস্ট্রিশন নং-১৫৯৯। বর্তমান রিহ্যাবস এর কমিটির মেয়াদ দুই বছর। তবে সেখানে আরো ৩ বছর পেরিয়ে যাবার পথে। এই নিয়ে সাধারন সদস্যদের মধ্যে চলছে মতদ্বন্দ।
জানাযায়, নর্থ খুলনা রিহ্যাবসের কার্যনির্বাহী পরিষদে ২৪জন প্রতিনিধি রয়েছে। খুলনার বটিয়াঘাটা থানার সাচিবুনিয়া এলাকায় মৃধা কমপ্লেক্স ভবনে রিহ্যাবসের দপ্তর রয়েছে। কিন্তু এই অফিসের কার্যক্রম অনেক আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে বলে সাধারন সদস্যদের অভিযোগ। ঝিমিয়ে পড়া এই সংগঠনটিতে শতাধিক সদস্য অর্থাৎ প্লট ও ফ্লাট ব্যবসায়ি নিয়ে এই সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। এই কমিটির কার্যক্রম অনেকটা নিষ্কিয় থাকার কারণে অর্থনৈতিক এবং কোন প্রকার দৃশ্যমান উন্নতী লক্ষ করা যাচ্ছে না। মেয়াদ উর্ত্তীণ কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন করে কমিটি গঠন করার দাবি সাধারন সদস্যদের ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক এক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ি বলেছেন, এই কমিটির এক শীর্ষ নেতার ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, উঠেছে নানা সমালোচনা। তবে বর্তমান সভাপতি আলহাজ্ব শেখ আবেদ আলীর অনেক দূরদর্শী মনোভাব থাকলেও তা প্রস্ফুটিত হচ্ছে না। তবে সভাপতি আবেদ আলীর আগ্রহ আছে রিহ্যাবস সংগঠনটিকে একটি সম্মানজনক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে । পিছিয়ে পড়া এই সংগঠনটিকে গতিশীল করার জন্য সভাপতি আবেদ আলী সব দিক থেকে বিবেচনা করে দ্রুত নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
তথ্যমতে, কমিটির দুই জন নেতার নামে পাওয়ার এ্যার্টনীর মাধ্যমে ৮৭ শতক জমি কেনা বেচা হয়। এতে ৩৮ জন বিনিয়োগকারীর নিকট থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ক্রয়কৃত জমি বিক্রি করে ৩৩ জনের মূল টাকা ফেরৎ দেওয়া হলেও লভ্যাংশের কোন টাকা দেওয়া হয়নি। এই নিয়ে অনেকের মধ্যে ক্ষোভের পাহাড় জমেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রিহ্যাবস সংগঠনের সদস্য পদ পেতে হলে একালীন ভর্তি ফি ১০ হাজার টাকা এবং মাসিক চাঁদা ১২ মাসের ৬ হাজার টাকা দিতে হয়। এছাড়াও সংগঠনের নতুন কিছু সদস্য ভর্তি ফি সহ মাসিক চাঁদা পরিশোধ করলেও তারা এখন পর্যন্ত সদস্যপদ পায়নি।
এ ব্যাপারে কথা হয় নর্থ খুলনা রিহ্যাবস (রিয়েল এস্টেট এন্ড হাউজিং বিজনেস সোসাইটি) এর সভাপতি আলহাজ্ব শেখ আবেদ আলীর সাথে। তিনি জানান, করোনা বিপর্যয়ের কারণে আমরা সাংগঠনিকভাবে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছি। চলমান সংকট উত্তরোন হলে দ্রুত এই কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হবে।
সিআইএনটিভি২৪ এর সাথে কথা বলেন রিহ্যাবস এর প্রকাশক ও প্রচার সম্পাদক আলহাজ্ব আসলাম তালুকদারের সাথে। তিনি বলেন, রিহ্যাবস সংগঠনটির বৃহত্তর স্বার্থে সব সময় আমি আন্তরিক। তবে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে রিহ্যাবসের কার্যক্রম এখন থেকে পরিচালিত হবে।
মুঠোফনে কথা হয় রিহ্যাবস এর অর্থ সম্পাদক ও বটিয়াঘাটা জলমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশিকুজ্জামানের সাথে। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম সামলাতে গিয়ে রিহ্যাবস সংগঠনের দিকে সময় দিতে পারছি না।
রিহ্যাবস এর যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর হোসেন মত প্রকাশ করে বলেন, এই সংগঠনটির বর্তমান কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করে সংগঠনের নীতিমালা অনুসরণ করে রিহ্যাবস এর গতি ফিরিয়ে আনার দরকার।
সর্বশেষ কথা হয় রিহ্যাবস এর সাধারন সম্পাদক এস এম হাফিজুর রহমান হাফিজের সাথে। তিনি জানান, আমি কোন পদে নেই , সুতরাং আমার মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে বিভিন্ন সংগঠনের নামে রেজিস্ট্রিশন অনুমোদন হচ্ছে । কিছু কিছু সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কর্মহীন দপ্তরহীন সংগঠনগুলো নামমাত্র সাইনবোর্ড টানিয়ে জনগনের নিকট থেকে অবৈধ সুবিধা আদায় করছে বলে তথ্য উঠে এসেছে। এমন কি ওই সব রেজিস্ট্রিশনভুক্ত সংগঠন বিভিন্ন নাম ব্যাবহার করছে। এগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্লাক লিস্ট করে নিবন্ধন বাতিল করে প্রকৃত উদ্যেগতাদের সহজ শর্তে সরকারের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেওয়া উচিত বলে বিজ্ঞ জনেরা মনে করেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর যেমন, জেলা সমবায় অধিদপ্তর , সমাজ সেবা অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, জেলা মৎস্য কার্যলয়, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও জয়েন্ট স্টোক কোম্পানী সহ বিভিন্ন দপ্তর থেকে নিবন্ধন নিয়ে অনেকেই ব্যবসা বানিজ্য ও সমিতি গড়ে তুলেছেন। তবে ব্যক্তি বিশেষ নিজের স্বার্থ হাসিল করার জন্য সরকারি দপ্তর থেকে নিবন্ধ নিয়ে নানা অনৈতিক কার্যক্রম ঘটিয়ে প্রতারনার ফাঁদে ফেলছে নিরীহ জনসাধারনকে । এ সব নামধারী নামমাত্র সংগঠনের নিবন্ধন বাতিল করার পদক্ষেপ নেওয়া উচিত কর্তৃপক্ষের। অন্যদিকে রেজিস্ট্রিশন বিহীন কিছু সংগঠন রয়েছে তারাও সমাজ সেবার নামে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের অর্থ।