অভয়নগরের বিধবা গৌরী বিশ্বাসের ঘরে অমাবস্যার অন্ধকার, এখনও বাঁচার আশা খুঁজছেন

69
মেহেদী হাসান ইরান, জেলা প্রতিনিধি (যশোর)
বাড়িতে নেই কোনো টয়লেট,নেই টিউবওয়েল, নেই ভালো পরিধেয় কাপড়, প্রতিবেশিরা আসেনা বাড়ীতে, খোজ নেয়না কোনো জন-প্রতিনিধি, টিনের একটি ছোট্ট খুপরি ঘরের বারান্দায় তার অবস্থান। এক ছেলেকে নিয়ে অন্যের বাড়ীতে কাজ করেই চলছে ১৫ বছর তার সুখের সংসার। তবে সংসার আর আজ সুখে নেই, সর্বনাশা করোনা কেড়ে নিয়েছে তার  ইনকামের শেষ ভরসাকে। আর কেউ ডাকেনা তাকে আজ কাজে। ছেলে মাছ মেরে বিক্রয় করে যা পায় তা দিয়ে চলতো সংসার।  এখন আর বিলে পানি নাই মাছ ও নাই তাই খেয়ে না খেয়ে ভাঙ্গা ঘরেই চলছে তাদের সংসার। এমনই এক জীবন গল্পের কথা জানালেন অভয়নগর উপজেলার ৭ নং শুভরাড়া ইউনিয়নের ইছামতি গ্রামের মৃত সতীশ বিশ্বাসের বিধবা স্ত্রী গৌরী বিশ্বাস (৬৬)। খোজ নিয়ে জানা গেছে, একমাত্র ছেলে এক(১) বছরের সাধন বিশ্বাস কে রেখে মারা যায় পিতা সতীস বিশ্বাস। গৌরী বিশ্বাসের স্বামী মারা গেছে ১৫ বছর আগে সেই থেকে পরের বাড়ী কাজ করে চলে তার সংসার। স্বামীর রেখে যাওয়া ১৪ শতক জমির মধ্য আছে মাত্র ৩ শতক জমি। শরিকরা কিভাবে বাকি জমি কবজা করেছে বলতে পারেনা গৌরী। বিধবা ভাতা’র কার্ড থাকলে ও সমাজ সেবা অফিস নিয়ে নিয়েছে অনেক আগে। কিছুতেই বলতে পারেনা, কেন নিয়েছে তার কার্ড? ভাতা বন্ধ এখন।  সামনে যেন অমাবস্যার অন্ধকার কিভাবে চলবে তার সংসার। গৌরী বিশ্বাস জানিয়েছেন পেটে ভাত নেই, পরনে কাপড় নেই, থাকার জায়গা এমন কি ঘরও নেই কিভাবে বেঁচে থাকবে সে? সৃষ্টি কর্তার উপর অঘাত বিশ্বাস রেখে তিনি আরো জানিয়েছেন, ঠাকুরের কৃপায় যদি কোন হৃদয়বান কেউ এগিয়ে আসতো তবে একটু বেঁচে থাকতে পারতো সে। এলাকাবাসী এ প্রতিবেদনের মাধ্যমে উপজেলা কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত আবেদন করেছেন যেন বিধবা গৌরী ও তার ছেলের বেঁচে থাকার একটা অবলম্বন কর্তৃপক্ষ করে দেয়।