বাংলাদেশের উন্নয়নে যুব সমাজের গুরুত্ব বেশি 

38
উৎপল ঘোষ,(যশোর)থেকেঃ
আজ থেকে ত্রিশ কি পঞ্চাশ বছর পরে জাতি হিসেবে আমরা অগ্রগতির কোন স্তরে পৌঁছবো রোগ, ব‍্যাধি,অভাব -অনটন,অশিক্ষা অসহায়ত্ত্বের উপর কতটুকু নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হবো,এমনকি জাতি হিসেবে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মর্যাদার কোন আসনে অধিষ্ঠিত থাকবো তার অনেকটাই নির্ভর করছে  আমাদের যুব সমাজের উপর।কর্মচঞ্চল,সীমাহীন প্রাণশক্তির অধিকারী এবং গতিশীল যুব সমাজই আমাদের মূল ভরসা।তাদের চোখেই আমাদের মূল ভরসা।তাদের চোখেই আমরা আমাদের স্বপ্ন দেখি।তাদের মাধ‍্যমেই আমরা আমাদের রঙীন স্বপ্নের বাস্তবায়ন দেখতে চাই।তাদের মধ্যে দিয়েই আমরা বেঁচে থাকতে চাই হাজার হাজার বছর।
প্রদীপের কাজ হলো আলো দান করা।কিন্তু ঐ প্রদীপই শুধু আলো দিতে পারে যার মধ্যে সততা আছে।আমাদের যুব সমাজকে এ সত‍্যটা অনুধাবন করতে হবে।আর সেটা গ্রহণ করতে হবে আন্তরিকতার সাথে।শিক্ষাই ব‍্যাক্তিকে অন্ধকার থেকে নিয়ে আসে আলোর মেলায়।মনের জড়তা ও অস্পষ্টতার অনিশ্চিয়তা থেকে নিয়ে আসে সত‍্যের মুখোমুখি।চোখে আনে উজ্জ্বল দৃষ্টি।বয়ে আনে সাহস ও বল।শিক্ষাই সমাজে শৃষ্টি করে গতি ও বেকার সমস‍্যা। তাই অজানাকে জানার,অচেনাকে চেনার, অসম্ভবকে সম্ভব করার জন‍্যে জম্নদান করে ঔৎসুক‍্যের,মননশীলতার,বজ্রকঠিন সৎকল্পের।যে শিক্ষা একটা জীবনকে সুন্দর করে তোলে সেই প্রকৃত সুশিক্ষা সমাজে এখনও অনুপস্থিত।যে নৈতিকতায় শিক্ষায় মানুষ দূরকে কাছে টানে,পরকে আপন করে,সমগ্র বিশ্বকে আপন ঘর বলে ভাবতে শিখে তাও আমাদের শিক্ষা ব‍্যবস্থায় প্রায় অনুপস্থিত।এ সব বিষয়ে সমাজপতি বা নীতি- নির্ধারকরা ভাবুক।বর্তমানে যেটুকু শিক্ষা ব‍্যবস্থা আছে তা সদ্ব্যবহার করতে হবে এবং নিজেদের সেইভাবে
গড়ে তুলতে হবে।
আমরা জানি,দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ও স্বাস্থ‍্য মন্ত্রালয়ে যা ঘটছে তা দূর্ভাগ‍্যজনক।এখন  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সবই আছে,আছে নামমাত্র শুধু শিক্ষার আলো।শিক্ষকরা  প্রাইভেট নামে কোচিং বানিজ‍্যে উম্নাদ।একজন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ সন্তান ক্ষত বিক্ষত।আজকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ জাতীয় স্বার্থের সাথে সাম‍্যঞ্জস‍্যপূর্ণ নয়।শিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োজন বৈপ্লবিক পরিবর্তন।এখন আর অপেক্ষা করার সময় নেই।এ অবস্থার মধ্যে থেকেও বেরিয়ে এসেছেন অনেক স্বনামধন‍্য ব‍্যক্তিত্ব। প্রত‍্যেক শিশু জন্মগ্রহণ করে অন্তহীন সম্ভাবনার ডালি মাথায় নিয়ে।শিক্ষা মাধ‍্যমে সম্ভাবনার ঐ সকল দল বিকশিত হয়।সুপ্ত কুঁড়ি শিক্ষার সোনালী কিরণের স্পর্শে পূর্ণরূপে বিকাশ লাভ করে।
আমাদের আজকের যুব সমাজ দৃষ্ঠি আকর্ষণ করে বলছি ঐ সকল পথ থেকে সরে এসে দৃঢ় প্রত‍্যয়ী হয়ে জাতীয় চেতনায় উদ্বৃত্ত হতে হবে।জাতীয় চেতনা বলতে আমরা বুঝি এমন চিন্তাসম্ভাবনা যা নিজেদের অর্জন সম্পর্কে জাগ্রত করে তীক্ষ্ম গৌরব বোধ।জাতীয় চেতনা এমন এক অনুভূতি যা সব সময় মাথা উঁচু রাখতে উদ্বুদ্ধ করে।অপরের প্রতি নির্ভরতা পরিহার করতে।
যুব সমাজের নিকট ও সমাজের দাবি অনেক।সমাজের সার্বিক চিত্রের দিকে দৃষ্ঠি দিলেই তা সুস্পষ্ট হয়ে উঠে। একুশ শতকের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এ সমাজের শতকতা পঞ্চাশ ভাগ ব‍্যক্তিবর্গ বসবাস করছে দারিদ্র সীমারেখার নিচে।তাদের অর্ধেকই বাঁধা হচ্ছে মানবেতর জীবন যাপনে। এ সমাজের শতকরা ৬০ ভাগ জনসমষ্ঠি এখনো নিরক্ষরতার অন্ধকারে নিমজ্জিত।কর্মক্ষম শ্রমশক্তির বিরাট এক অংশ এবং শিক্ষিত তরুণ -তরুণী একটি বড় অংশ বেকারত্ব অথবা আধাবেকারত্বের অভিশপে অভিশপ্ত।অন‍্যদিকে এ সমাজের রাজনীতি পরনির্ভরশীল। অন‍্যদিকে মাধ‍্যমিক,উচ্ছ মাধ‍্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ -তরুণীরা বর্তমানে মাদকাসক্তে ঝুঁকে পড়ছে। অন‍্য আরেক অংশের উপর সন্ত্রাস ভর করছে। ২০২০সাল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত  চলছে নারী পাচারের ব‍্যবসা।আইন আছে কিন্তুু বিচার নাই।যা হচ্ছে তা নামমাত্র।সঠিক বিচার না হওয়ার কারণে অনেক মায়ের কোল আজ খালি হচ্ছে।আবার যুব অপরাধিরা জামিনে বের হয়ে আবার মাদক ব‍্যবসায় আবার জড়িয়ে পড়ছে।গডফাদারগংরা সব সময় থেকে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে।আর যুব সমাজকে ব‍্যবহার করছে আমলারা।
অন‍্য দিকে তাকালে দেখা যাবে,এদেশে আজ সব আছে তারপরেও রয়েছে দারিদ্র,হতাশা এবং বঞ্চনা। বাংলাদেশের মর্যাদা বিশ্বের সবচেয়ে উর্বর মর্যাদার অন‍্যতম।৩৬৫ দিনের মধ্যে প্রায় ৩৫০ দিনই থাকে রৌদ্রকরোজ্জল।এ ভূখন্ডে লাভ করে প্রচুর বৃষ্টিপাত।প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য নেই বটে, কিন্তুু বাংলাদেশে যে পরিমাণ গ‍্যাস পাওয়া গেছে এবং তেল প্রাপ্তির সম্ভাবনা যেমন উজ্জল তাতে দারিদ্রের উপস্থিতি অস্বাভাবিক বলে মনে হয়।বাংলাদেশের ১৭ কোটি জনসমষ্ঠির হাতকে কর্মীর হাতে রুপান্তরিত করতে সক্ষম হলে ভয় কিসের।মানব উপাদান হিসেবে বাংলাদেশেীরা কারোর কাছে ছোট নয়।তারপরে কেনএত হতাশা?
এসব প্রশ্ন যুব সমাজের মনে আলোড়ন সৃষ্ঠি করুক।তাদেরই পেতে হবে এসব প্রশ্নের জবাব।স্বীকার করতে দ্বিধা নেই,এ সমাজের নীতি- নির্ধারকরা ব‍্যর্থ হয়েছেন পদে পদে।সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়নে ব‍্যর্থ হয়েছেন।আমাদের সন্তানদের সঠিক শিক্ষাদানে আমরা ব‍্যর্থ হয়েছি।আমাদের সন্তানদের আকাশ ছোঁয়া উচ্ছকাঙ্কা জাগ্রত করতে আমরা পারিনি।এই ব‍্যর্থতার গ্লানি আমরা আমাদের যুব সমাজের দক্ষতার মাধ‍্যমে ভূলে যেতে চাই।দক্ষিণ কোরিয়া,তাইওয়ান,সিঙ্গাপুর,মালয়েশিয়া এবং অন‍্যান‍্য অগ্রগামী জনপদে যুবশক্তি যেভাবে  পদভারে যেভাবে এগিয়ে চলেছে, আমাদের যুব সমাজকে সেই গতিশীলতার অধিকারী হিসেবে আমরা দেখতে চাই।
এই সকল চ‍্যালেন্স মোকাবেলার জন‍্যে বিশেষ করে একুশ শতকের মহাসমারোহে মর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে ভূমিকা পালনের জন‍্যে,একদিকে যেমন প্রয়োজন যুব সমাজের নৈপুণ্য অর্জনের,তেমনি প্রয়োজন দক্ষতা। এ জন‍্য প্রয়োজন হবে যুক্তির জোর,জোরের যুক্তি  নয়।কার্যকর করতে হবে মস্তিষ্কের শক্তি।পেশিশক্তি নয়।দরকার হবে সুপরিকল্পিত কর্মধারার।বাণী প্রদান বা বক্তৃতা বিবৃতির ফুলঝুরি নয়। তাই যুব সমাজের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ ও আইনানুগ চেতনার বিকাশ ঘটাতে হবে, নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সকলের যোগ‍্য অবদানে জাতীয় লক্ষ‍্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।জ্ঞানের রাজ‍্যে এখন কোন জাতি বা সম্প্রদায়ের একচেটিয়া কোন অধিকার নেই। কোন জাতি কিভাবে তার ভাগ‍্য তাদের পরিবর্তন করেছে তা এখন সবার জানা। তাই নিয়মতান্ত্রিকতার জালে আটকে না পড়ে সঠিক তথ‍্যের ভিত্তিতে অগ্রসর হওয়ার সময় এসেছে এখন। তাই এখন তত্তের দিকে দৃষ্ঠি না দিয়ে শুধু তথ‍্যের দিকে তাকালে চলবে। উন্নয়নশীল সমাজে উন্নয়নের ঝরণা ধারা সমাজ জীবনকে সিক্ত করতে হলে সবার আগে  সুদৃষ্ঠি দিতে হবে মানুষের দিকে। দেখতে হবে, যাদের জন‍্য উন্নয়ন তারাই যেন থাকে যে কোন উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ‍্যমনি হিসাবে। এসব দারিদ্র পিড়ীত, বঞ্চিত মানুষগুলোর কানে কানে যদি এই মন্ত্র বারে বারে উচ্ছারিত হয় যে, “তোমরাই তোমাদের ভাগ‍্য সক্ষম, তোমাদের হাতের মুঠোয় রয়েছে তোমাদের অগ্রগতি অর্জনের সেই সোনার কাঠি,নিজেদের প্রচেষ্টায় তোমরা অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসতে পার,তাহলেই তোমরা অসম্ভবকে সম্ভব করবে”। শুধু শিক্ষা প্রশিক্ষণের মাধ‍্যমে জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়।আমাদের যুব সমাজের তারুণ্য ও প্রবীণতার সুষম সমন্বয় ঘটলে আর কোন ভয় নেই। হাজারো প্রতিবন্ধকতার উত্তাল তরঙ্গে ধীরস্থীর থেকে অভীষ্ঠ গন্তব্যে নির্ভয়ে তারা পাড়ি জমাতে সক্ষম হবে।আমরা রয়েছি সেই শুভ দিনের আশায়।
একুশ শতকের চ‍্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের যুব সমাজকে প্রস্তুত হতে হবে। তৈরি হতে হবে বিশ্বময় প্রসারিত প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে সাফল‍্য অর্জনের লক্ষ‍্যে। এ জন‍্য প্রয়োজন হবে মেধার সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিকাশের।প্রতিযোগিতার ক্রমশ ঘর্ষণের মাধ‍্যমের সৃষ্টি হয়  বিশ্বজয়ী মেধার।করোর নিকট হার না মানার স্পৃহা এবং এসবই আমাদের যুব সমাজকে করে তুলবে অপ্রতিদ্বন্ধি।বিজয়ের গৌরববোধ।আমরা দেশবাসী ঐ দিনের আশায় রইলাম। বাংলাদেশের যুব সমাজ আপন মহিমাময় ভাস্কর হয়ে উঠুক।