ইস্টার্ণজুট মিলের অফিস সহকারী শামীমের অনিয়মের ফিরিস্তি : দুদকের অনুসন্ধানের দাবী

535

ডেক্স রিপোর্ট।।

অনিয়ম যেন নিত্য দিনের রুটিন মাফিক কাজ। এমন কোন দাপ্তরিক শুভঙ্করের ফাঁকি নাই যা শামীমের হাতে হয়নি। ২০১০ সালে ইস্টার্ণজুট মিলের উৎপাদন বিভাগে টালী ক্লার্ক পদে চাকরিতে স্থায়ী করণ হয় শামীমুল ইসলাম ওরফে শামীমের। কয়েক বছর যেতে না যেতে শামীম হঠাৎ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়। কারণ উৎপাদন বিভাগে নিয়োগ থাকলেও শামীম অদৃশ্য শক্তির বলে লেবার অফিসে কাজ করতে থাকে। আর এই লেবার অফিসে শ্রমিকদের নিয়োগ বাণিজ্যে সিদ্ধহস্ত হতে শুরু করে। বিশেষ সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন শ্রমিকদের গেটপাশ তৈরি, বদলি শ্রমিকদের পারমানেন্ট করতে সিরিয়াল আগে পরে করা এমন একাধিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন শামীম। বেশ ভূষণ দেখলে মনে হয় বিজিএমসি’র কোন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। শামীমের দাপটে পুরো মিলের শ্রমিকরা দিশাহারা হয়ে পড়ত।

তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়, ২০১২ সালের প্রথম দিকে ৩০ থেকে ৩৫ জন শ্রমিকের জাল বদলি গেট পাশ করেন শামীম। বিষয়টি তৎকালীন প্রকল্প প্রধান ও শ্রম দপ্তরের কর্মকর্তা শহীদুল্লার নজরে আসলে ওই ভূঁয়া বদলি গেট পাশ বাতিল করে। তবে সিবিএ’র তৎকালীন এক প্রভাবশালী নেতা শামীমের পক্ষে  অবস্থান নেওয়াতে শামীমের বিরুদ্ধে আর কোন বড়ধরনের বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি ম্যানেজমেন্ট।

এদিকে খুলনার ফুলতলার আলকা এলাকার সরোয়ার বিশ্বাসের ছেলে রাকিব জানান, আমাদের এলাকা থেকে প্রায় ১৫/১৬ জন ওই সময় বদলি গেট পাশ করার জন্য প্রতিটি গেট পাশ বাবদ ৭ হাজার টাকা দিয়েছি শামীমের হাতে।

কথা হয় শ্রমিক নেতা নজরুল গাজীর সাথে। তিনি জানান, ২০১২ সালে আমি ও অভয়নগরের আক্কাস যার যার এলাকা থেকে বেকার কিছু ছেলেদের কর্মসংস্থানের জন্য ইস্টার্ণজুট মিলের বদলি গেট পাশের জন্য শামীমের কাছে গেলে ৩৫টি গেট পাশ বাবদ মোটা অংকের টাকা দিই। তবে কষ্টের বিষয় পরবর্তীতে গেটপাশগুলো নবায়ন করতে গেলে তা জাল গেট পাশ হিসেবে বিবেচিত হয়। শ্রমিক নেতা নজরুল আরো বলেন, তৎকালী লেবার অফিসার শহীদুল্লার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে গেট পাশ তৈরি করে দেয় শামীম।

এখানেই শেষ নয় শামীমের অনিয়মের ফিরিস্তি। ঘুরে ফিরে রপ্তানী বিভাগে এল ডি এ পদে যোগদান করেন শামীমুর । মিলের স্বার্থে বিভিন্ন জেলার খাদ্য অধিদপ্তরে শামীম গেলে অতিরিক্ত টিএডিএ বিল দেখানো হতো। টাকার হিসাব একাউন্টস বিভাগে সমন্বয়হীনতার কারণে সাম্প্রতিক শামীমকে দেড়লাখ টাকা গুণতে হয় কর্তৃপক্ষের কাছে। বার বার শ্বোকজ পেয়েছেন চাকরী জীবনে। অনিয়মকে নিয়মে এনে শামীম ব্যক্তিগত জীবনে বিপুল টাকার মালিক বনে গিয়েছে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মিল কর্মকর্তা।

তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধানে নামলে অনেক অজানা ইতিহাস বেরিয়ে আসবে। তাই শামীমের অনিয়মের থাবায় ভুক্তভোগি সাবেক শ্রমিকরা দাবি জানিয়েছেন বিজেএমসি কর্তৃপক্ষ যেন অচীরেই শামীমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেন।

আগামী প্রতিবেদনে বিস্তারিত আসছে শামীমের অনিয়মের চিত্র।।