ইস্টার্ণজুট মিল যেন এখন গরুর বাছুরের খোয়ার (অনুসন্ধানী ১)

255

আবু হামজা বাঁধন।। ডেক্স রিপোর্ট।।

বিজেএমসি’র খুলনা জোনের অন্যতম এক সময়কার জৌলসপূর্ণ জুট মিল ছিল ইস্টার্ণ জুট মিল। কালের পরিক্রমায় সেই জৌলস হারিয়ে গিয়েছে। তবে জুট মিলটি এখন গরু বাছুরের খোয়ার হিসেবে রুপ নিয়েছে। বর্তমান প্রকল্প প্রধান ড. জি এ এম মাহাবুবুর রশীদ জুলফিককার মিল অভ্যান্তরে ছাগল, গরু ও কবুতর পালন করছেন। মাঝে মধ্যে গরু ছাগলগুলো প্রশাসনিক ভবনের সামনেও দেখা যায়। এ যেন মিল জুড়েই এক গরু ছাগলের খোয়ার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখামেলে, মিলের প্রথম গেটে প্রবেশ করলে গরু বাছুর, দ্বিতীয় গেট প্রবেশ করলেও দেখা মেলে গরু ছাগলের বিচরন। এ ছাড়া প্রকল্প প্রধানের বাংলাতো গরু ছাগলের বড় খামার রয়েছে। পুরো মিল জুড়েই দূর্গন্ধময় হয়ে একাকার হয়ে রয়েছে। খোদ বিজেএমসি’র চেয়ারম্যান মিল পরিদর্শনে এসে গরু ছাগলের মেলা দেখে গিয়েছেন। মিলের চাকা যখন সচল ছিল, তখন মিলের কারখানার মধ্যেও গরু ছাগল প্রসাব পায়খানা করে রাখত। অনেক সময় শ্রমিকদের গরু ছাগলের দূর্গন্ধময় মল মূ্ত্রের মধ্যে কাজ করতে হতো । এমন তথ্য জানিয়েছেন মিলের একাধিক অবসরে যাওয়া শ্রমিক। মিলের প্রকল্প প্রধান এই সকল গরু ছাগল বেশির ভাগ সময় কতিপয় সিকিউরিটি গার্ড দিয়ে পরিচর্যা করিয়ে আসছেন। অনেকে এই চাপা কষ্ট মেনে নিয়েও কাজ করে যাচ্ছেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিরাপত্তা প্রহরী জানিয়েছেন, কপালে আছে তাই এসব কাজ করে যাচ্ছি।

এদিকে মিলের বর্তমান নিরাপত্তা বিভাগের জমাদ্দার শাহাদাৎ হোসেন বলেন, যখন মালি না থাকে তখন গরু তো সিকিউরিটি গার্ড বের করে। গরু ছাগলের বিষয় নিয়ে আমাদের কোন অভিযোগ নাই। জোনাল জিএম যিনি, তার অফিসেও গরু ছাগল সিকিরিউটি গার্ডরা দেখে।

প্রকল্প প্রধান ড. জুলফিকার জানান, মিল অভ্যান্তরের গরু ছাগলের পালনের বিষয় বিজেএমসি’র অনুমোদন রয়েছে।

এদিকে বিজেএমসি’র চেয়ারম্যানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, গরু ছাগল পালনের বিষয় কোন অনুমোদন কাউকে দেওয়া হয়নি।

গরু ছাগল পালন কোন দোষের নয়। তবে বিজেএমসি’র প্রতিষ্ঠানের জৌলস নষ্ট করে মিলটিকে গরু ছাগলের খোয়ারে রুপান্তিরিত করা দোষনীয় বলে মনে করেন সচেতন মহল। এছাড়া প্রকল্প প্রধান নিরাপত্তা প্রহরী দিয়ে গরু ছাগল পালন করে আসছেন তা মানবাধিকার লংঘনের সামিল। নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ মিলের নিরাপত্তা বজায় রাখা। তাদের দিয়ে গরু ছাগল পালন করা সম্পূর্ন বে আইনী বলে মনে করেন সাবেক সিবিএ নেতৃবৃন্দ।

ইস্টার্ণজুট মিলের সাবেক সিবিএ নেতা গাজী ইউসুফ এ প্রতিবেদককে জানান, প্রকল্প প্রধান জুলফিককার শুধু গরু ছাগল পালন করে মিলের পরিবেশ নষ্ট করছে না, তিনি সরকারী গাড়ী স্ত্রীর অফিসে যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করতে দিয়েছেন। যা সম্পূর্ণ অবৈধ।

আগামী প্রতিবেদনে ইস্টার্ণ জুট মিলের এই প্রকল্প প্রধানের আরো অনিয়মের হালহকিত তুলে ধরা হবে।