ভারতে তিন থেকে পাঁচ বছর জেল খেটে দেশে ফিরলেন তারা 

18
উৎপল ঘোষ,(ক্রাইম রিপোর্টার )যশোর
গতকাল (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ  বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে সাত পুরুষ ও তিন নারীকে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
ফেরত আসারা হলেন,যশোর শহরতলীর পুলেরহাট এলাকার সুলতান শিকদারের মেয়ে মাহমুদা আক্তার (২৩),নড়াইল কালিয়া উপজেলা পেড়োলি গ্রামের রব্বান লেখের মেয়ে রোকসানা খাতুন (১৮),খুলনার খোকন আলীর ছেলে সাগর(৩৪) এবং হবিগঞ্জ জেলার ছাত্তার মিয়ার ছেলে গোলাপ(৩৫)।বাগেরহাট জেলার শামসুল হকের ছেলে রাসেল ফকির (৩০) ও তার স্ত্রী আয়শা আক্তার (২৪), একই জেলার মোড়লগঞ্জ উপজেলার নয়ন হালদার (২৪), সাজু চন্দ্র (৩০) খোকন আলী (২৭) ও রাসেল হোসেন (২৯)।
এদিকে দশ জন নারী পুরুষ অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য গ্রহণ করেছে রাইটস যশোর ও জাষ্টিক আ্যন্ড কেয়ার নামে দুটি এনজিও।
ফেরত আষার মধ্যে যশোরের মাহমুদা খাতুন বলেন,২০১৭ সালে তিনি পাসপোর্ট ভিসা করে ভারতে যান।সেখানে তার পাসপোর্ট হারিয়ে যায়। পরে পুলিশ তাকে আটক করে জেলখানায় পাঠায়।
খুলনার সাগর হোসেন বলেন,সেখানে তিনি বিভিন্ন ধরণের কাজ করার সময় পুলিশ তাকে আটক করে। প্রায় তিন বছর জেল খেটে আজ দেশে ফিরছি।
 রোকসানা খাতুন বলেন,তিনি ২০১৬ সালের ভাল চাকুরীর কথা বললে দালালের খপ্পরে পড়ে ভারতে পাচার হন।এরপর প্রথমে এক বাসা বাড়ি সহ বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতেন।২০১৮ সালে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেলে যেতে হয় তাকে।
যশোরের রাইটস তথ্য অনুসন্ধান কর্মকর্তা তৌফিকুজ্জামান জানান,ভূক্তভোগীরা বিভিন্ন সময় দালালের খপ্পরে পড়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ব্যাঙ্গালরু যান।সেখানকার পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়।আদালত তাদের তিন থেকে পাঁচ বছরের জেল দেন।পরবর্তীতে একটি এনজিও তাদের ছাড়িয়ে  তাদের শেল্টার হোমে রাখে। এরপর দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রালয়ের যোগাযোগের এক পর্যায়ে ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে গতকাল দেশে ফেরত আসেন তারা।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান হাবিব বলেন,সাত পুরুষ ও তিন নারী ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পূলিশ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে আমাদের কাছে গতকাল হস্তান্তর করেছে। কাগজপত্র আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।সেখান থেকে রাইটস যশোর ও জাষ্টিক আ্যন্ড কেয়ার নামে দুটি এনজিও তাদের গ্রহণ করেছে।যেহেতু তারা ভারত ফেরত সেহেতু তাদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।তারপর তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে এনজিও।