ক্যাপ্টেন নওশাদের মরদেহ আনতে বিশেষ বিমান যাচ্ছে ভারতে

15

শতাধিক জীবন বাঁচিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাইলট ক্যাপ্টেন নওশাদ কাইউমের মরদেহ ভারতের নাগপুরের কিংসওয়ে হাসপাতালের মর্চুয়ারিতে রাখা হয়েছে। বিশেষ ফ্লাইটের অনুমতির আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে আনতে বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট যাবে ভারতের নাগপুরে। তবে কবে কখন ফ্লাইটটি নাগপুর যাবে সে সময় সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সোমবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিমান জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত থাকায় ক্যাপ্টেনের মরদেহ আনতে বিশেষ ফ্লাইট যাবে ভারতে। ক্যাপ্টেনের মৃত্যুর পর হাসপাতালের ডেথ সার্টিফিকেটের অপেক্ষায় ছিল বিমান। ডেথ সার্টিফিকেটের সেই কপি ঢাকায় আসার পরপরই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি চেয়েছে বাংলাদেশ বিমান। সোমবার মধ্যরাত অথবা মঙ্গলবার সকালে আনা হতে পারে ক্যাপ্টেনের মরদেহ।

বিমান সূত্রে জানা যায়, বিমানবন্দরে ক্যাপ্টেন নওশাদকে সম্মাননা জানাবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী ও সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন।

এর আগে সোমবার হাসপাতালে ক্যাপ্টেনের পরিবারের সামনে তার ভ্যান্টিলেশন খুলে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

গত শুক্রবার (২৭ আগস্ট) সকালে ওমানের মাস্কাট থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে বিজি-০২২ ফ্লাইটটি নিয়ে ঢাকা আসার পথে ভারতের আকাশে থাকা অবস্থায় ক্যাপ্টেন নওশাদ অসুস্থ বোধ করেন। পরে ফ্লাইটটিকে মহারাষ্ট্রের নাগপুরের ড. বাবাসাহেব আম্বেদকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করান।

বিমান সূত্রে জানা যায়, আকাশে অসুস্থ হয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক্যাপ্টেন নওশাদ ফ্লাইটটিকে কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) কাছে জরুরি অবতরণের অনুরোধ জানান এবং একই সময় তিনি কো-পাইলটের কাছে ফ্লাইটের নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করেন। কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ফ্লাইটটিকে নিকটস্থ নাগপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করার নির্দেশ দিলে কো-পাইলট ক্যাপ্টেন মুস্তাকিম ফ্লাইটটি অবতরণ করান।

বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের ফ্লাইটে ১২৪ জন যাত্রী সবাই নিরাপদে ছিলেন। শুক্রবারই আরেকটি ফ্লাইটে করে আট সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল নাগপুরে যায়। মধ্যরাতের পর বিমানটিকে যাত্রীসহ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয়।

উল্লেখ্য, ক্যাপ্টেন নওশাদের কারণে ওমান থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ১২৪ যাত্রীর জীবন রক্ষা পায়। পাঁচ বছর আগেও ১৪৯ যাত্রী আর সাত ক্রু’র জীবন বাঁচিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন নওশাদ।

সৌজন্যে : আরটিভি অনলাইন নিউজ পোর্টাল