মাগুরার উলিনগর গ্রামে অবৈধ ইটের ভাটা : পরিবেশ হুমকির মুখে

69

স্টাফ রিপোর্টার
মাগুরা সদর উপজেলার কছুন্দী ইউনিয়নের উলিনগর গ্রামে অর্ধযুগ ধরে কয়েকটি অবৈধ ইটের ভাটা দেধারছে তাদের ব্যবসা চালিয়ে আসছে। বর্তমান পরিবেশ বিপর্যয় হুমকির মুখে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে ভাটার মালিকদের রোষনালে পড়তে হয়। আবার পরিবেশ অধিদপ্তর ভাটা জব্দসহ জরিমানা করলেও কোন পরিত্রান মেলে না। আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে আবারও এই ভাটা ব্যবসায়িরা তাদের ব্যবসা চালু করে যাচ্ছে। এ যেন চোর পুলিশ খেলা চলে এই উলিনগর গ্রামে। ইটভাটা বন্ধের দাবিতে উলিনগর গ্রামবাসি গত ১৫ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলা প্রশাসক সহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত গন অভিযোগ দিয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়, দীর্ঘ ৬ বছর যাবৎ উলিনগর গ্রামে মধুমতি নদীর তীরবর্তী ঘন জনবসতি এলাকায় অবৈধ ইটের ভাটা গড়ে উঠেছে। ইটের ভাটা স্থাপনের জন্য কোন প্রকার বৈধ কাগজাদি বা অনুমোদন নেই। অথচ বছরের পর বছর এমএসবি নামক ইটের ভাটা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। ইটের ভাটার তিন পাশে জনবসতি এবং একটি মহিলা মাদ্রাসা রয়েছে। ফলে ইট পোড়ানোর সময় বিষাক্ত কালো ধোঁয়া চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ধোয়ার কারণে লেখাপড়া করতে পারে না। বিশেষ করে ইট ভাটার পাশে যাদের বসতি রয়েছে তারা কোনভাবেই ধোঁয়ার মধ্যে দিয়ে বসবাস করতে পারছে না। এছাড়া রাস্তা দিয়ে নসিমন, করিমন সহ দশ চাকার ভারী ট্রাকে মাটি ও ইট যাতায়াতের কারণে রাস্তা ভেঙ্গে পড়ে যাচ্ছে। এখানেই শেষ নয় । ভাটা ব্যবসায়িরা নদীর পাড় থেকে মাটি কেটে উত্তোলণ করে ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করে যাচ্ছে। ফলে নদীর ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। তথ্যমতে, এমএসবি ইটভাটার মালিকগণ হলেন সালাম মন্ডল (৫২), পিতা-মৃত : ছরোয়ার মন্ডল, তিলাম মন্ডল (৫৪), পিতা-তোরাব মন্ডল, উভয় সাং-কুসন্দী, থানা ও জেলা-মাগুরা , সোহেল বিশ্বাস (৩০), পিতা-মো: আওয়াল বিশ্বাস, সাং-বাগবাড়িয়া, থানা+জেলা: মাগুরা। ভাটা ব্যবসায়ি আঃ সালাম জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা ইট ভাটা চালোনার জন্য বলেছে , এছাড়া এখন পর্যন্ত আমাদের কোন কাগজপত্র করা হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই অবৈধ ইটভাটা বন্ধের জন্য যারাই প্রতিবাদ করতে আসে। তাদের বাড়ি গিয়ে সোহেল বিশ্বাস তাঁর লোকজন হুমকি দিয়ে আসে। অন্যদিকে গ্রামের মানুষ অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছে এই তিন ভাটা ব্যবসায়িদের প্রভাবে।
কছুন্দী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোল্যা মুঠোফোনে বলেন, অবৈধ এবং যা জনগনের জন্য ক্ষতিকর তার পক্ষে আমি নাই, ইটভাটা বন্ধের জন্য আমি জনগনের সাথে আছি।

পরিবেশ অধিদপ্তর যশোর জেলার শাখার সহকারি পরিচালক হারুন অর রশীদ বলেন, এই ইটভাটা এর আগেও আমরা জরিমানা সহ জব্দ করেছি, আমরা মাগুরা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে কথা বলে আবারও ব্যবস্থা নিব।

মাগুরা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়াসীন কবির জানান, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে এসি ল্যান্ডকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।