নওয়াপাড়া পৌরসভা নির্বাচন : প্রসাসনের চিন্তা এখন ঝুঁকি পূর্ণ কেন্দ্রে

32
মেহেদী হাসান ইরান ( জেলা প্রতিনিধি যশোর)
সকল জল্পোনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্থগিত হওয়া ৬ষ্ঠ ধাপে নওয়াপাড়া পৌরসভাসহ দেশের নয়টি পৌরসভায় ভোট গ্রহণ হবে রাত পোহালেই, ২০ সেপ্টেম্বর। যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌর সভায় এ ভোটকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের দৌড়ছুট প্রায় শেষের দিকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৌরসভার মোট ৩০ ভোট কেন্ত্রের মধ্য সব কয়টি  কেন্দ্রকেই ঝূঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যার মধ্যে ছয়টি ভোট কেন্দ্রকে অধিক ঝূঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তারা।
আসন্ন ২০ সেপ্টেম্বর এ পৌরসভায় ইভিএমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সে লক্ষে গত শনিবার ও রবিবার কেন্দ্রগুলোতে মক ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। মূলত এ মক ভোটের মাধ্যমে ইভিএম সম্পর্কে যারা যানেনা তাদের ভোট  দেওয়ার বিষয় সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।
প্রার্থী দের ভোট চাওয়ার পালা শেষ হয়েছে। এর আগে শেষ মুহুর্তের প্রচারণায় দিন রাত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন প্রার্থীরা। সেই সাথে চলছে মাইকে নানারকম প্রচার-প্রচারণা। প্রার্থীদের দৌড় ছুটের তুলনায় যদিও ভোটারদের আগ্রহ অনেকাংশেই কম লক্ষ করা গেছে। তথাপি মোড়ে ময়দানে, চায়ের দোকানে সর্বত্র ভোট নিয়ে আলোচনা চলছে।
থেমে নেই প্রার্থীদের পদচারনা তাদের  নিয়েও চলছে নানামুখি আলোচনা সমালোচনা। চলছে চুলচেরা বিশ্লেষন। এমনকি করোনা মহামারীকালে সাধারণ ভোটারদের পাশে কার অবস্থান কতটুকু ছিলো তা নিয়েও চলছে আলোচনা।
ভোটের মাঠে কোন সহিংসতা হবে কিনা এমন প্রশ্নও করে বসছেন কেউ কেউ। যদিও প্রশাসন থেকে কঠোর ভাবে বার্তা দেয়া হয়েছে ভোট কেন্দ্রে কোন প্রকার সহিংসতামূলক কর্মকান্ড ঘটানোর চেষ্টা করলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা। পাশাপাশি ফ্রি এ্যান্ড ফেয়ার ভোট গ্রহণে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
আসন্ন ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নওয়াপাড়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ছেন তিনজন। নৌকা প্রতিক নিয়ে ভোট যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছেন নওয়াপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সুশান্ত কুমার দাস শান্ত। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতিক নিয়ে মেয়র পদে মাঠ চষছেন এইচ এম মহসিন, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতিক নিয়ে পৌরসভার এ প্রান্ত থেকে অপ্রান্তে ছুটছেন আলমগীর হোসেন ফারাজী।
যদিও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পদচারনায় অনেক ওয়ার্ডের ভোটাররা নাজেহাল হওয়ার উপক্রম। প্রতিটি ওয়ার্ডেই ৭ জন থেকে ৮ জন এমনকি ১০ জন কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন বলে জানাগেছে। ফলে ভোটাররা আসলে কাকে রেখে কাকে বিশ্লেষন করবেন তা ভাবতেই নাজেহাল অবস্থা। সেই সাথে একজন প্রার্থী যেতে না যেতেই আর একজন প্রার্থী এসে ভোটারদের দুয়ারে কড়া নাড়ছেন। ফলে এত সংখ্যক কাউন্সিলর প্রার্থীর চাপ সামলাতে অনেক ভোটারই নাজেহাল।
নির্বাচন অফিসেন সূত্র মতে জানাগেছে সবগুলো কেন্দ্রেই  নির্বাচনের আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র পৌছেগেছে। নির্বাচন অফিস অভয়নগর উপজেলার প্রিজাইডিং কার্যালয় থেকে এক বার্তায় জানাগেছে  নওয়াপাড়া পৌরসভার ৩০ টি ভোট কেন্দ্রকেই ঝূকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যার মধ্যে অধিক ঝূকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ৬ টি ভোট কেন্দ্র। অধিক ঝূকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলো হলো- পৌর সভার ৫ নং ওয়ার্ডের আল হেলাল ইসলামি একাডেমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আল হেলাল ইসলামী একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একই ওয়ার্ডের পূর্ব বুইকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (পুরাতন ভবন) ও পূর্ব বুইকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (নতুন ভবন), এছাড়া পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের নওয়াপাড়া মহিলা কলেজ কেন্দ্র ও নওয়াপাড়া পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।
ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্র চিহ্নিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম শামীম হোসেন।
উল্লেখ্য, আসন্ন ২০ সেপ্টেম্বর নওয়াপাড়া পৌরসভা নির্বাচনে ৩০ টি ভোট কেন্দ্রের ৮৮ টি বুথে ৬৩ হাজার ১শ’ ৮৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।