স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েব

15

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি নথি গায়েব হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে এই নথিগুলোর খোঁজ মিলছে না। কয়েকটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কেনাকাটার নথিসহ আরও কিছু প্রকল্পের ক্রয় সংক্রান্ত নথি হারিয়েছে। নথি হারানোর বিষয়ে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে মন্ত্রণালয়। এছাড়া নথি গায়েবের ঘটনায়, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. শাহ্‌? আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- যুগ্ম সচিব (চিকিৎসা শিক্ষা) মো. আহসান কবীর এবং উপ-সচিব (চিকিৎসা শিক্ষা-১) মোহাম্মদ আবদুল কাদের। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার শাহবাগ থানায় করার জিডির তিনদিন পরেও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগ থেকে খোয়া যাওয়া ১৭টি নথির হদিস মেলেনি। নথি উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশের পাশপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সংস্থা।

একজন বিশেষ পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সিআইডিও ঘটনার তদন্ত করছে। তারা সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
নথি চুরির ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (প্রকল্প বাস্তবায়ন-১ শাখা) ও অতিরিক্ত দায়িত্ব (ক্রয় ও সংগ্রহ-২) নাদিরা হায়দার জিডিটি করেছেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেছেন,স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ক্রয় ও সংগ্রহ-২ শাখার কাজ সচিবালয়ের ৩নং  ভবনের ২৯নং কক্ষে পরিচালনা করা হয়। ওই শাখায় সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. জোসেফ সরদার ও আয়েশা সিদ্দিকা কাজ করেন। কক্ষের একটি ফাইল কেবিনেট ড্রয়ারে সংশ্লিষ্ট শাখার নথি রাখা হয়। গত বুধবার  প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে বিকাল ৫টায় ফাইল কেবিনেট তালা দিয়ে জোসেফ সরদার ও আয়েশা সিদ্দিকা অফিস ত্যাগ করেন। পরদিন সকাল ৯টায় অফিসে এসে শাখায় আগত চিঠি নিষ্পত্তির জন্য ফাইল কেবিনেটের ড্রয়ার খুলে তারা দেখতে পান ১৭টি নথির একটিও নাই। পরে অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন), অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) ও সচিবের একান্ত সচিব ওই রুম পরিদর্শন করেন।
মন্ত্রণালয় ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খোয়া যাওয়া নথির অধিকাংশই স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের অধীনে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের ক্রয় সংক্রান্ত নথি। জিডিতে উল্লেখ করা খোয়া যাওয়া ১৭টি নথির মধ্যে রয়েছে, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজসহ আরও কিছু মেডিকেল কলেজের নথি। এছাড়া ইলেকট্রনিক ডেটা ট্র্যাকিংসহ জনসংখ্যাভিত্তিক জরায়ু মুখ ও স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং কর্মসূচি, নিপোর্ট অধিদপ্তরের কেনাকাটা, ট্রেনিং স্কুলের যানবাহন বরাদ্দ, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের বেশ কিছু প্রকল্পের নথি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মানবজমিনকে বলেন, নথি চুরির ঘটনায় মন্ত্রণালয় থেকে শাহবাগ থানায় একটি জিডি হয়েছে। জিডির সূত্র ধরে আমরা তদন্ত করছি। তবে এখন পর্যন্ত নথি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
বিভিন্ন হাসপাতাল ও মেডিকেল হাসপাতালে কেনাকাটায় অনিয়মের খবর প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। এসব অভিযোগের ঘটনার তদন্তও হচ্ছে। কোথাও কোথাও কেনাকাটার প্রকল্প আটকে দেয়া হয়েছে। এই অবস্থায় খোদ মন্ত্রণালয় থেকে এত নথি গায়েবের ঘটনায় রহস্য দেখা দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মতো সুরক্ষিত স্থান থেকে নথি চুরি বা গায়েব হওয়ার পেছনে কোনো দুর্বৃত্ত চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চুরির ঘটনা প্রকাশের পর এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। বলা হচ্ছে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের মাধ্যমেই এই ফাইল সরানো হয়েছে।