দাকোপ পানখালী ফেরিঘাটে নির্ধারিত টোলের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি আদায় : উদাসীন প্রশাসন

22

ডেক্স রিপোর্ট।।

খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী ফেরি পারাপার হতে সরকার নির্ধারিত টোলের চেয়েও পাঁচগুণ বেশি আদায় করছে খুলনার মেসার্স জিনিয়া এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। আর এসব খেসারত দিতে হচ্ছে দাকোপ, চালনা এ দুই উপজেলার সাধারণ মানুষকে। অতিরিক্ত টোল আদায়ের ফলে বাসের ভাড়া বাড়িয়েছে বাস ও ট্রাক  মালিক কর্তৃপক্ষ। এতে টোলের ভাড়ার খপ্পরে পড়েছে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে। দাকোপ উপজেলার প্রবেশ্বদ্বার পানখালী ফেরিঘাট। এ ফেরিঘাটের ২০১-২০২০,২০২০-২০২১,২০২১-২০২২ সালের তিন বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।  ১,১৪,৩৬,০০০/-টাকায় খুলনার মেসার্স জিনিয়া এন্টারপ্রাইজ এর মালিক জিয়াউর রহমান ইজারা নেয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ট্রাইলার (বোঝায়/খালি)১২৫/-, হেবি ট্রাক (বোঝায়/খালি)১০০/- মিডিয়াম  ট্রাক (বোঝায়/খালি)৫০/- বড় বাস (বোঝায়/খালি)৪৫/- মিনি ট্রাক (বোঝায়/খালি)২৫/- মাইক্রো বাস (বোঝায়/খালি)২০/- ফোর হুইল চালিত যানবাহন (বোঝায়/খালি)২০/- সিডান কার (বোঝায়/খালি))১৫/-৩/৪ চাকার মোটরযান(বোঝায়/খালি)৫/- মোটর সাইকেল ৫/-রিকশা/ ভ্যান/সাইকেল ৫/- টাকা করে পারাপারের জন্য নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও ইজারাদার প্রতিষ্ঠান তা মান্য করছে না। সরকার নির্ধারিত টোলের চেয়ে ৫ গুণ বেশি টোল আদায় করছে বলে পারাপারকৃত চালকদের অভিযোগ। পানখালী ফেরিঘাটে একটি মালবাহী ট্রাকের ড্রাইভার আবদুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, তিনি খুলনা থেকে থেকে ট্রাকে মাল নিয়ে দুপুরে দাকোপের পানখালী ফেরি পার হয়েছেন। তার কাছ থেকে ৭০০ টাকা  নেওয়া হয়েছে। অথচ সরকার নির্ধারিত ১২৫ টাকা ।অতিরিক্ত ভাড়া দিতে রাজি না হলে ইজারাদারের নিয়োগকৃত লোকজনের হাতে প্রায়ই লাঞ্চিত হতে হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের যাহনবাহনের মালিক ও শ্রমিকদের। যে কারনে পরিবহন শ্রমিকরা ইজারা কর্তৃপক্ষের লোকজনের হাতে জিম্মি হয়ে অতিরিক্ত টোল পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কেউ নাই। যাত্রীবাহী বাস চালক অভিযোগে জানান, সরকারি নির্ধারিত ৪৫ এর স্থলে ১৩০ টাকা টোল নেওয়া হচ্ছে শুধু আমি না এখানে যত যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে সকলকে এ টাকা দেওয়া লাগে । এই অঞ্চলের নিম্নশ্রেণির কিছু লোকের জীবিকা নির্বাহ করেন চলাচলকারী বেশ কয়েকজন মোটর সাইকেল বাইক চালক অভিযোগ করেন, পানখালী ফেরি পারাপারে তাদের কাছ থেকে ৫ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা করে টোল আদায় করা হয়।  পানখালী ফেরিঘাটের সাংবাদিকদের সামনে একটি ট্রাকে  আপ/ডাউন ২৫০ টাকার স্থলে ১৪০০ টাকা টোল আদায়ের সময় টোল আদায়কারী কর্মচারীকে অতিরিক্ত টোল এর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন সরকারের নির্ধারিত নিলে তাদের ভিটেমাটি বিক্রি করতে হবে পূর্বে ইজারাদার যেভাবে টোল আদায় করেছে আমরাও সেভাবে টোল আদায় করছি। টোল আদায়ের রিসিট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান রিসিট কাটা নেই। তথ্য সংগ্রহের সময় আরেকজন স্টাফ  এসে বলেন আপনারা কে আপনাদের সমস্যা কি? অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে নিয়ে কেন কথা বলছেন পরবর্তীতে গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দিলে তিনি জানান আমরা ইজারাদার তিন ডবল টাকা দিয়ে এই ডাক নিয়েছি। সরকার আমাদের কাছ থেকে ১,১৪,৩৬,০০০/- লাখ টাকা  নিয়েছে অতিরিক্ত টোল আদায়ের কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান এর দায় দায়িত্ব জনগণের। এই ঘাট পরিচালনা করেন খুলনার প্রভাবশালী লোকজন। আপনারা আমাদের সাথে বুঝে শুনে কথা বলবেন। এই ঘাট থেকে খুলনার বড় বড় মহজন এখান থেকে টাকা নেন। আপনি কেন তাদের টাকা দেন তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ইজারা ছাড়া পাওয়ার জন্য তারা আমাদেরকে সহযোগিতা করেছে এই জন্য তাদেরকে টাকা দেওয়া লাগে। উক্ত সময় একজন ভুক্তভোগী এসে জানান তার একটি প্রাইভেটকার পারাপারের জন্য এক হাজার টাকা দিয়েছেন কিন্তু তাকে কোন রিসিট দেয়া হয়নি এ বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অভিযোগ করেছেন।

আনুসন্ধানে আরও জানা যায় ইজারাদারের কাছে তিন কিস্তির টাকা পাওনা আছে। এ বিষয়ে খুলনার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন, সরকারের নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত টোল আদায় নেওয়ার অভিযোগ যে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধে নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে   নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনিসুজ্জামান মাসুদ এর সামনে থেকে মোবাইল ফোনে দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে  তিনি জানান এই বিষয় টি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তের আমার বিষয় নয়। এদিকে ইজারাদার মেসার্স জিনিয়া এন্টারপ্রাইজ এর ০১৯১৯০০৯৭৭৭ নং যোগাযোগ করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে পানখালি ঘাটের ইজারা সরকারি নিয়মনীতি মানছে না ইজারাদাররা। নির্ধারিত ফির চেয়ে দ্বিগুণ, কোথাও তিন গুণ ইজারা আদায় করা হয়। এদিকে ইজারা দিয়ে ক্ষান্ত কর্তৃপক্ষ। তাদের কোনো তদারকি নেই ইজারা বাহিনীর দৌরাত্ম্য ও চাঁদাবাজিতে অসহায় সাধারণ মানুষ