ভারতের প্রতিরক্ষা প্রধান বিপিন রাওয়াতসহ ১৩ জন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে নিহত

22

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ভারতের প্রথম প্রতিরক্ষা প্রধান বা চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) বিপিন রাওয়াত। বুধবার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে সেনাবাহিনীর ওই এমআই- ১৭ হেলিকপ্টারটি। এতে বিপিন রাওয়াতের সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী এবং ১২ সেনা কর্মকর্তা। ভারতীয় বিমান বাহিনী জানিয়েছে, হেলিকপ্টারে থাকা ১৪ জনের মধ্যে ১৩ জনই নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে বিপিন রাওয়াত ও তার স্ত্রীও রয়েছে। এ খবর দিয়েছে এনডিটিভি।
ভারতের বিমান বাহিনী বলেছে, হেলিকপ্টারটি আজ বুধবার তামিলনাড়ুর নীলগিরিতে বিধ্বস্ত হয়। বিমান বাহিনী টুইট করে এ কথা নিশ্চিত করেছে। হেলিকপ্টারটিতে যারা ছিলেন তার মধ্যে অন্যতম সিডিএস জেনারেল বিপিন রাওয়াত, তার স্ত্রী মাধুলিকা রাওয়াত, ব্রিগেডিয়ার এলএস লিড্ডার, লেফটেন্যান্ট কর্নেল হারজিন্দার সিং, এনকে গুরসেওয়াক সিং, এনকে জিতেন্দ্র কর, ল্যান্স নায়েক বিবেক কুমার, ল্যান্স নায়েক বি সাই তেজা এবং হাবিলদার সাতপাল।

এর আগে জেনারেল বিপিন রাওয়াত দিল্লি থেকে একটি ফ্লাইটে সেলুর-এ যান। ওই ফ্লাইটে ৯ জন উপস্থিত ছিলেন। বিমান বাহিনীর টুইটে বলা হয়েছে, ভারতীয় বিমান বাহিনীর এমআই-১৭ভি৫ হেলিকপ্টারটিতে সিডিএস জেনারেল বিপিন রাওয়াত ছিলেন। হেলিকপ্টারটি আজ তামিলনাড়র কুনুরের কাছে দুর্ঘটনায় পতিত হয়।

এর কারণ উদঘাটনে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে নীলগিরিতে। কয়েম্বাটোরের সেলুর সামরিক ঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের অল্প পরেই এমআই-সিরিজের ওই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। নীলগিরির ওয়েলিংটনে অবস্থিত ডিফেন্স স্টাফ সার্ভিসেস কলেজে যাচ্ছিল এটি। ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, পাহাড়ি এলাকায় হেলিকপ্টারটির ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সেখানে উদ্ধার অভিযানে রয়েছেন কর্মীরা। ঘন ও গাঢ় ধোয়া উড়ছে। গাছের ওপর দিয়ে আগুন দেখা গেছে। স্থানীয় লোকজন এবং পুলিশ সদস্যরা মৃতদেহগুলো সরিয়ে নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ভারতের প্রথম চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ হিসেবে জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেন ৬৩ বছর বয়সী জেনারেল রাওয়াত। ভারতের তিন বাহিনী- সশস্ত্র বাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীকে সমন্বিত করে ওই পদ সৃষ্টি করা হয়। পরে তাকে নবসৃষ্ট ডিপার্টমেন্ট অব মিলিটারি অ্যাফেয়ার্সের প্রধান নিয়োগ করা হয়। আজকের দুর্ঘটনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংকে জানানো হয়েছে।