খুলনায় মানবাধিকার দিবসে অধিকার’র মানববন্ধন

13

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
গুমের শিকার সাতক্ষীরার হোমিও চিকিৎসক মোখলেসুর রহমান (জনি) কে ফেরত চেয়েছেন তার বাবা মো. আব্দুর রাশেদ। একই সঙ্গে পুলিশ কর্তৃক দু’ চোখ উপড়ানো খুলনার যুবক মো. শাহজালালও তার চোখ ফেরত চেয়েছেন রাষ্ট্রের কাছে। অপরদিকে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের মামলায় হয়রাণির শিকার খুলনার সাংবাদিক মো. রাশিদুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার এবং এ ধরণের নিবর্তনমূলক সকল আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) শীর্ষ মানবাধিকার সংগঠন ‘ধধিকার’ কর্তৃক খুলনায় আয়োজিত মানববন্ধন ও র‌্যালিতে অংশ নিয়ে তারা এসব দাবি উত্থাপন করেন। বেলা ১১টায় নগরীর ফুল মার্কেট মোড় থেকে র‌্যালি বের হয়ে জাতিসংঘ পার্কের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধিকার খুলনার ফোকাল পার্সন সাংবাদিক মুহাম্মদ নূরুজ্জামান। দিবসটি উপলক্ষে অধিকার’র বিবৃতি পড়ে শোনান হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার ও সাংবাদিক কেএম জিয়াউস সাদাত।
মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালীন অনুষ্ঠিত সমাবেশে গুমের শিকার সাতক্ষীরার হোমিও চিকিৎসক মোখলেসুর রহমান (জনি)’র পিতা মো. আব্দুর রাশেদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘২০১৬ সালের ৪ আগষ্ট সাতক্ষীরা সদর থানার এসআই হিমেলের নেতৃত্বে পুলিশ তার ছেলে জনিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু থানায় কয়েকদিন রেখে তাকে গুম করা হয়। গত ৬ বছরেও তার সন্ধান দিতে পারেনি পুলিশ।
সন্তানহারা বৃদ্ধ আব্দুর রাশেদ প্রশ্ন করেন, তার সন্তানের কি অপরাধ ছিল? কেন তাকে গুম করা হলো? এখন তার শিশু বাচ্চা তার কাছে পিতার কথা জানতে প্রশ্ন করে, আমি তাকে কি জবাব দিব? তিনি অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি এবং তার সন্তানকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে পুলিশ কর্তৃক দু’ চোখ উপড়ানো খুলনা মহানগরের গোয়ালখালি এলাকার যুবক মো. শাহজালাল তার চোখ ফেরত চেয়ে বলেন, খালিশপুর পুলিশ বিনা অপরাধে ছিনতাইয়ের সন্দেহে তাকে ধরে নিয়ে তার দু’টি চোখ তুলে দেয়। এ ঘটনায় তিনি খালিশপুর থানার তৎকালীন ওসি নাসিম খানসহ ১৩ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেও ন্যায় বিচার পাননি। তিনি অভিযুক্তদের বিচার দাবি করেন।
কর্মসূচীতে বক্তৃতা করেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের মামলায় হয়রাণির শিকার বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহ-সভাপতি সাংবাদিক মো. রাশিদুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-১ আসনে মোট ভোটের চেয়েও ২২ হাজারেরও বেশি ভোট কাষ্টিং দেখানো হয়। তিনি ওই সংবাদ প্রকাশ করায় তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় আসামি করা হয়। তিনি কয়েক মাস পলাতক থেকে মানবেতর জীবন-যাপন করেছেন। তার শিশু সন্তান ও স্ত্রী পুলিশের হয়রাণির শিকার হয়েছে। এখন উচ্চ আদালতের জামিনে থাকলেও মামলার খড়গ ঘাড়ের ওপর রয়েছে। প্রতিনিয়ত হয়রাণির শিকার হতে হচ্ছে। তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ এ ধরণের নিবর্তনমূলক সকল আইন বাতিল এবং তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, নিরাপদ সড়ক চাই- নিসচা’র খুলনা জেলা সভাপতি এসএম ইকবাল হোসেন বিপ্লব, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের খুলনা মহানগর সহ-সভাপতি সরদার আবু তাহের, সাতক্ষীরার মানবাধিকার কর্মী এ্যাডভোকেট শেখ মো. আলমগীর আশরাফ, সমাজসেবক হাফেজ মো. ওয়াহিদুজ্জামান, পরিবেশ সংগঠন ছায়াবৃক্ষের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম বাদশা, খুলনা ব্লাড ব্যাংকের সভাপতি শেখ ফারুক। উপস্থিত ছিলেন রিয়াজ ইসলাম, মো. শহিদুল ইসলাম, গৌতম দে হারু, পুলিশ কর্তৃক চোখ উপড়েফেলা শাহাজালাল হাওলাদারের স্ত্রী রাহিলা বেগম, মাতা রেনু বেগম, খুলনা ব্লাড ব্যাংকের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুল ইসলাম, মো. হেমায়েত হোসেন, বি এম ইমরান হোসেন শিমুল, অধিকার ডিফেন্ডার এম এ আজিম, মো. বদরুজ্জামান, সাংবাদিক মো. সাইফুল ইসলাম, মো. শওকত হোসেন, মো. সাকিব হাসান, হীরা মুক্তা, গালিব হাসান, তামিম হাসান, মো. তাসনিম হাসান, মিরাজুল ইসলাম প্রমূখ।
বক্তারা আরও বলেন, দেশে চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘণের ঘটনা ঘটছে। বিচারবহির্ভূত হত্যা, সীমান্ত হত্যা, গুম এবং আইন-শৃংখলা বাহিনী কর্তৃক নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি চিকিৎসা নিতে এসে খুলনায় একটি আবাসিক হোটেলে রাত যাপনকালে কেএমপি’র গোয়েন্দা শাখার এসআই জাহাঙ্গীর আলম কর্তৃক মেয়ের সামনে মা’কে ধর্ষণের ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি দাবি করেন বক্তারা। একই সঙ্গে এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে দেশে সুষ্ঠু গণতন্ত্র চর্চা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।